ধানে ‘পাতামুড়ানো’ পোকার আক্রমণ

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ সদর ও দোয়ারা উপজেলায় গত ২০ দিন আগে থেকে ধান গাছে ‘পাতামুড়ানো’ পোকায় আক্রমণ শুরু করেছে। সদর উপজেলার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এবং দোয়ারা উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের জমিতে এই পোকার আক্রমণ ব্যাপক হারে শুরু হয়েছে। ওষুধেও পোকা নিধন হচ্ছে না। এ কারণে হতাশায় কৃষকেরা।
মান্নারগাঁও ইউনিয়নের কাটাখালী, আজমপুর, ইদনপুর, জালালপুর, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, পান্ডারগাঁও এলাকার জমিতে এই পোকার আক্রমণ হয়েছে। সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঢালাগাঁও, কৃষ্ণনগর, নলুয়া, বেরীগাঁও, কোনাগাঁও, বানীপুর, রাজানগর, আমপারা, সৈয়দপুর, বালাকান্দা, মঙ্গলকাটা, ঢালারপাড় প্রভৃতি এলাকায় আমন ধানের জমিতেও একইভাবে দেখা গেছে পোকার আক্রমণ।
সদর উপজেলার সুরমা ইডউনিয়নের কৃষক হুমায়ুন রশিদ, নূরুল ইসলাম, আবু আহমদ, ঈমান আলী, এমরান হোসেন, আতাউর রহমান, বারেক মিয়া, জামাল মিয়া জানান, অনাবৃষ্টি ও টানা খরতাপে পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধান গাছের পাতায় প্রথমে সাদা আকৃতির ছাপ ছাপ হয়, পরে লালচে হয়ে পড়ে। পোকায় কেটে দিলে ডিগা ঝরেপড়ে।
একই এলাকার কৃষক মতিন মিয়া, আবু সালাম, মিজান মিয়া, আব্দুল মতলিব, জাকির হোসেন, জামাল হোসেন, নজরুল হোসেন, জয়নাল আবেদীন, জামাল মিয়া, কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও আবুল কাশেম জানান, পোকা নাশক ‘বলিউম ফ্লেকসি’ নামক ওষুধ বাজারে ৩৩০ টাকা দরে পাওয়া যেতো। ওষুধ ব্যবহার করলে কাজও হতো। এখন এই নামের নকল ওষুধ বাজারে বেরিয়েছে। দাম অত্যন্ত কম। এই ওষুধ ব্যবহারে কোনো লাভ হয় না।
দোয়ারা উপজেলার নোয়াগাঁওয়ের কৃষক শফিকুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী, জলিল মিয়া, আসকর আলী, ওয়ার্ড মেম্বার আজাদ মিয়া, ফরহাদ আলমসহ অনেকে একই কথা জানান।
সাবেক ইউপি সদস্য ও কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও আমন ধানের গাছে পোকায় আক্রমণ করেছে। ওষুধেও কাজ হচ্ছে না। পোকার আক্রমণ থেকে জমি রক্ষা করতে না পারায় কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায়ও আমন ধানের জমিতে পোকায় আক্রমণ করেছে। বৃষ্টি হলে পোকা কিছুটা দমন হবে। নইলে ধানের জমির মারাত্মক ক্ষতি হবে। শুনেছি পোকা নিধনের নকল ওষুধ বাজারে আছে। এই ওষুধ ব্যবহারে কৃষক ফল পাচ্ছেন না। এই বিষয়টিও খোঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
দোয়ারা উপজেলার আজমপুরের কৃষক আব্দুছ সাত্তার ও আমজদ আলী বলেন, গত বারের চেয়ে এবার আমন জমিতে ‘পাতামুড়ানো’ পোকার আক্রমণ বেশি হয়েছে। ওষুধেও কাজ হচ্ছে না। যদি বৃষ্টি হয় তবে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া পেতে পারে।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, বৃষ্টির অভাবে পোকায় ধরেছে আমন জমিতে। পোকার আক্রমণ থেকে জমি বাঁচাতে কৃষকদের পোকা নাশক ‘বলিউম ফ্লেকসি’ নামক ওষুধ বাজারে আছে, দাম একটু বেশি, কম দামী ওষুধে কাজ হয় না। ‘নাইট’ ও ‘ছবি কল’ নামের ওষুধের দাম কম আছে। এই ওষুধ কিছুটা কাজ করে। তিনি জানান ধান গাছে আক্রমণকারী এই পোকার নাম ‘পাতামুড়ানো’ পোকা।