ধোপাজানে আবারও ড্রেজারের তা-ব

আকরাম উদ্দিন
সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আওতাধীন ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন। বালু উত্তোলনকারীদের দাবি সেলু মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের জন্য উচ্চ আদালত থেকে অনুমোদন পেয়েছেন তাঁরা। এদিকে, সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক শ্রমিক জানান, সেলু মেশিনের পাইপ ৪ ইঞ্চি থাকে। বোমা বা ড্রেজার মেশিনে ৬ ইঞ্চি পাইপ ব্যবহার হয়। ৬ ইঞ্চি পাইপ ছাড়া বালু উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। সেলু মেশিনের কথা বলে ৬ ইঞ্চি পাইপ ব্যবহার করে ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে ধোপাজান চলতি নদীতে। গত ৪ দিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে। প্রায় ৬শ’ অবৈধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক কাজ পাচ্ছে না।
ধোপাজান চলতি নদীপাড়ের গ্রাম উত্তর ডলুরা, পশ্চিম ডলুরা, কাইয়ারগাঁও, পুরান মথুরকান্দি প্রভৃতি এলাকায় এই অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন কাজে বেশিরভাগই নিয়োগ দেয়া হয়েছে বাইরের শ্রমিকদের।
নারায়নতলা গুচ্ছগ্রামের শ্রমিক হাবিজ মিয়া বলেন,‘ধোপাজান চলতি নদীতে যখন ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়, তখন স্থানীয় বালু শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়ে। বালু উত্তোলন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে মানুষের বসতভিটাসহ ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেলু মেশিনের পাইপ ৪ ইঞ্চি থাকে। বোমা বা ড্রেজার মেশিনের পাইপ থাকে ৬ ইঞ্চি। ৬ ইঞ্চি পাইপ ছাড়া বালু উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। তাই সেলু মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের নামে ৬ ইঞ্চি পাইপ ব্যবহার করে ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে ধোপাজান চলতি নদীতে।’
উত্তর ডলুরা গ্রামের বাসিন্দা ও বালু শ্রমিক বিলাল মিয়া ও আলমগীর মিয়া বলেন,‘আমরা শ্রমিক। এই ধোপাজান চলতি নদী আমাদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন। ড্রেজার ও বোমা মেশিন চালু হওয়ায় এখন আমরা বেকার হয়ে পড়েছি।’
একই গ্রামের বাসিন্দা বালু শ্রমিক মামুন মিয়া, সাঈদ মিয়া, ভুট্টু মিয়া বলেন, বাইরের শ্রমিক দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কারণে আমাদের বেকার থাকতে হচ্ছে।’
একই গ্রামের বাসিন্দা বালু শ্রমিক মো. শাহ আলম বলেন,‘ধোপাজান চলতি নদীতে আমার ২টি ড্রেজার মেশিন বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি এগুলো ভাড়া দিয়েছি। তাঁরা বাইরের লোক দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এই নদীতে প্রায় ৬শ’ ড্রেজার মেশিন বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুকশেদ আলী বলেন,‘ধোপাজান চলতি নদীতে বোমা ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করায় আমার এলাকার বালু শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়েছে। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ধোপাজান চলতি নদী। বোমা ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় পরিবেশের উপর প্রভাব পড়েছে। বসতঘর ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে অনেক। স্থানীয় শ্রমিকদের বাঁচাতে এই অবৈধ মেশিনগুলো বন্ধ করা জরুরি।’
সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি একেএম আবু নাছার বলেন,‘ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম। এ সময় তিনি পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে অবগত হন এবং তদন্তপূর্ব প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন।’
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন,‘ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ ড্রেজার বা বোমা মেশিন দিয়ে কেউ বালু উত্তোলন করলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস বলেন,‘আমরা অনেকবার অভিযান করেছি। ড্রেজার বা বোমা মেশিন চালু আছে, এমন কিছুই পাইনি। শুধুমাত্র সেলু মেশিন পাওয়া গেছে। বালু উত্তোলনে যদি অবৈধ কোনো মেশিন চালু থাকে, অবশ্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’