নতুন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক

স্টাফ রিপোর্টার
উচ্ছেদ আদেশের ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগর বাজারের নদী তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের উচ্ছেদ করতে পারেনি প্রশাসন। সম্প্রতি আবার নতুন করে নদী দখলের হিড়িক পড়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধারারগাঁও মৌজার ১৩০৬ নং দাগের জমি নদী শ্রেণির। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এই মূল্যবান ভূমি দখল করে বহুতল স্থাপনা নির্মাণ করেছে।
২০১১ সালে ১৩০৬ দাগের ওই ভূমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন স্থানীয় কিছু ভূমিখেকোরা। ভূমি অফিস তখন এ ঘটনায় দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মোকদ্দমা (জেঃ প্রঃ, ০৬/২০১১) দায়ের করে। পরে ওখানকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ আদেশ হয়। ২০১৩ সনের ১০ মার্চ দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের লিখিত আবেদন করে উপজেলা ভূমি অফিস। কিন্তু এখনো এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি।
সম্প্রতি ১৩০৬ নম্বর দাগের মামলাধীন ভূমিতে আবারও দোকান কোঠা নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির নেতা মো. নূরুল হক সহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা উচ্ছেদ আদেশ অমান্য করে স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বহুতল ভবনের একতলার ছাদের কাজ শেষ করা হয়েছে।
সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হক সাংবাদিকদের বললেন, এই জায়গা মালিক স্থানীয় আখড়া (সনাতন ধর্মাবলম্বিদের মন্দির)। আখড়ার সঙ্গে সমঝোতা করে আমরা মার্কেট করছি।
মোহনপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন বললেন, উচ্ছেদ মামলার বিষয়ে আমরা জানতাম না। বলা হয়েছিল এই জায়গা আখড়ার। পরে কাগজপত্র বের করে দেখি এই জায়গা জেলা প্রশাসনের খতিয়ানভুক্ত। এটি জানার পর আমরা নূরুল হকসহ অন্য দখলদারদের স্থাপনার কাজ বন্ধ রাখার জন্য মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃক্ষের সঙ্গে কথা বলে উচ্ছেদ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা পারভিন বললেন, তহশিলদার পাঠিয়ে স্থাপনা নির্মাণকারীদের কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি জায়গা উচ্ছেদে অভিযান চালাবো।