নবীনগর সড়ক মেরামতে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ

আকরাম উদ্দিন
শহরের নবীনগর এলাকার যাতায়াত সড়ক মেরামতের জন্য দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে সদর উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে। এই সড়কে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত মেরামতের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
রবিবার সকালে এলাকার বাসিন্দা আবু মিয়া, রেজা মিয়া, বাবুল মিয়া, আব্দুল হক, সোহেল মিয়া, রাজ্জাক আহমদ সহ আরও অনেকে জানান, ২০২০ সালের জুন মাসে নবীনগর এলাকার রীনা ‘স’ মিল থেকে শুরু করে ধারারগাঁও পয়েন্ট পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই সড়ক। কিন্তু নানা টালবাহানায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই কারণে সড়কে চলাচলকারী সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন। এই যাতায়াত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন চলাচল করেন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সুষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে কাদা সৃষ্টি হয়। শুকনার দিনে গর্তে জমে থাকা ধুলাবালি উড়ে আশপাশের পরিবেশ নোংরা হয়। পায়ে হেঁটে সড়কে সাধারণ মানুষ চলাচলেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আকিক মিয়া বলেন, নবীনগর সড়ক গত বছরের বন্যায় ভেঙে যাওয়ার পর মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি কেউ। সড়কে চলাচলকারী মানুষেরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। এই সড়ক দ্রুত মেরামত প্রয়োজন।
আব্দুল কাদির বলেন, এই নবীগরের সড়ক মেরামতে বার বার বরাদ্দ আসে, মনগড়া কাজ করে চলে যায় ঠিকাদার। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর। গত দুই বছর আগে ভেঙে যাওয়া সড়কের এখন পর্যন্ত কোনো মেরামত কাজ শুরু হচ্ছে না। যানবাহন করে চলাচলে যেমন ভোগান্তি বেড়েছে, তেমনি পায়ে হেঁটেও। এই ভোগান্তি থেকে বাঁচতে জরুরিভিত্তিতে সড়কের মেরামত প্রয়োজন।
কাইমতর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবু তাহের বলেন, নবীনগর সড়ক বছর বছর ভাঙে। ঠিকাদার যেমন খুশি তেমন কাজ করেন। পরেই ভাঙতে শুরু করে সড়ক। সড়কের টেকসই উন্নয়ন হয় না। কাজের সময় কাজের ধরণ, বরাদ্দ, বিবরণ ইত্যাদি সম্বলিত কোনো সাইনবোর্ড দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হয়নি। এই সড়কের টেকসই উন্নয়নের দাবি আমাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাড. নুরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল বলেন, নবীনগর সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর যাবত কোনো মেরামত কাজ হচ্ছে না। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। সড়কে মানুষ ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নবীনগর সড়ক মেরামতের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। কার্যাদেশ পেলে কাজ শুরু হবে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে কার্যাদেশ পাওয়া যেতে পারে। তখন দ্রুত এই সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হবে। কাজ হবে রীনা ‘স’ মিল হতে ধারারগাঁও পয়েন্টের কিছুটা সামনা পর্যন্ত।