নাইন্দা নদী খনন/ শান্তিগঞ্জে ধসে গেল সড়ক, হুমকির মুখে কয়েকটি বসতবাড়ি

শান্তিগঞ্জ অফিস
শান্তিগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নের নাইন্দা নদী খননের কাজ শুরু হয়েছে গত ১২ জানুয়ারি। উপজেলার সুলতানপুরের মাঠের পাশ থেকে এসকেভেটর দিয়ে মাধ্যমে খনন কাজ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে পার্বতীপুর হাঁটুপাড়ায় পর্যন্ত মাটি খননের পর এলাকার প্রায় ৩শত’ ফুট জায়গার পাকা সড়কে ফাটল ধরেছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে জনগণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পার্বতীপুর গ্রামের সুমন মিয়া, দিলবাহার, আশরাফ আলী, তৌফিক মিয়া, তখলিছ মিয়ার বসতভিটা।
উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ৪ কোটি ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৫৬০ টাকা ব্যয়ে নদী খননের কাজ চলছে। খনন কাজ করছে টাঙ্গাইলের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স পুডম্যান এন্টারপ্রাইজ। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নদী খনন শুরু করে ৩০ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু খনন কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি।
শুক্রবার সড়ক ভাঙন এলাকার পাবর্তীপুর গ্রামের তখলিছ মিয়া, আশরাফ আলী, দিলবাহার, সুমন মিয়া, তৌফিক মিয়া, আসাদ মিয়া, আলীম উদ্দিন, সিরাজ মিয়া, সুন্দর আলী, হারুন মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই নদী খননের কারণে আমাদের গ্রামের প্রাচীন সড়ক ধসে গিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও কয়েকটি বাড়ির কাছে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় পুরাতন বসত বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, আমরা বার বার বলেছি নদীর উত্তর পাশ ভরাট রেখে দক্ষিণ পাশের দিকে খনন করার জন্য, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন আমাদের কথায় কোন কর্ণপাত করেনি। জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রামবাসী প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারীর মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দিলে তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস ও মাহবুব আলম বলেন, ভাঙন অংশ ভরাট করে দেয়া হবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার উজ জামান বলেন, জায়গাটা আমি দেখিনি। সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে যদি নদী খননের সাথে সড়ক ধবসের সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।