নান্দনিকতার ছোঁয়ায় সৌন্দর্যের নতুন মাত্রা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সুনামগঞ্জের মধ্যশহরকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। মসজিদের সামনে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুই সড়ক ডিএস রোড (দেওয়ান সাহেব রোড) ও মমিনুল মউজদীন সড়ককে যুক্তকরণ সড়ক ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার বখত সরণি’ ঘিরে ভিন্ন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশস্ত লিংক রোড বা সংযুক্তকরণ সড়কের ডানপাশে পুকুরপাড় ঘেঁষে নির্মাণ করা ফুটপাতও এলাকার সৌন্দর্য্য আরও বাড়িয়েছে।
সড়কের ডান পাশে পৌরসভার বৃহৎ পুকুর। মডেল মসজিদের ডান পাশের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্, বাম পাশে এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়, একটু এগুলেই সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন বখ্ত চত্বর, ঐতিহ্য জাদুঘর, রিভারভিউ ও পুরাতন সার্কিট হাউস রয়েছে। শহরের সকল নান্দনিকতা উপচে পড়েছে এই এলাকাকে ঘিরেই।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারদেশের ৫০ টি মডেল মসজিদের সঙ্গে জেলা সদরের এই মডেল মসজিদটি ভার্চুয়ালি উদ্বোধনের পর জোহরের নামাজ আদায় হয় এই মসজিদে। এখানে নামাজ আদায়ের পর মোসল্লীরা বলেছেন, অন্যরকমের পরিবেশে নামাজ আদায় করেছেন তারা। মন ভালো হয়ে যাবার মত পরিবেশ গড়ে ওঠেছে পুরাতন কোর্ট মসজিদ এলাকায়।
সিলেটের আখালিয়া এলাকার মহসিন উদ্দিন সুনামগঞ্জে এসেছিলেন ব্যক্তিগত জরুরি কজে। জোহরের নামাজের আগে আরেকজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, মডেল মসজিদের উদ্বোধন হচ্ছে আজ। এজন্য এখানে নামাজ পড়তে এসেছেন। বললেন, আমি মনে করছি, এটিও এক ইতিহাস, এজন্য এখানে এসে নামাজে যুক্ত হলাম।
এইচ এম পি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বললো, ভালো লেগেছে এখানে নামাজ আদায় করে, এতো ভাল পরিবেশ, নামাজ আদায় শেষেও এখানে সময় কাটানোর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সিলেটের পাঠানটুলার যুক্তরাজ্য প্রবাসী হেলাল খান ও শান্তিগঞ্জের রণসি গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আলী খান বললেন, সরকারের ভালো উদ্যোগগুলোর অন্যতম এই মসজিদ নির্মাণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা। এই মসজিদের নির্মাণ কাজে যারাই যুক্ত ছিলেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
এর আগে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সারাদেশের মডেল মসজিদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখেন সুনামগঞ্জের বিশিষ্টজনেরা।
এসময় জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পচিালক জাকির হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সুনামগঞ্জ শহরের মধ্যবর্তী এলাকার দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে স্থাপন হয়েছে। ওই এলাকার সৌন্দর্য্য এই মসজিদের জন্য আরও বেড়েছে। প্রায় বারশ মুসল্লী এই মসজিদে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। ১০০ মহিলার নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা আছে এখানে। অটিজম কর্ণারসহ সকল সুবিধা এই মসজিদে থাকছে। ইসলামী মূল্যবোধের সুস্থ্য চর্চা হবে এখানে।
এদিকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ‘মডেল মসজিদ’ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালির মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদের উদ্বোধন করেন। এদিন একযোগে দেশের আরো ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি উপজেলা সম্মেলন কক্ষে বড় পদায় দেখানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রবীন রাজনীতিবিদ সিদ্দিক আহমদ, সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুরের সার্কেল) সুভাশিষ সরকার, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক মেয়র মিজানুর রশিদ ভুঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হোসেন লালন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধু সুধন ধর, জেলা পরিষদের সদস্য মাহতাবুল হাসান সমুজ, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শংকর রায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ধর্মমন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে ২০২০ সালের দিকে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকার ঠিকাদারী স্টার লাইট সার্ভিসেস লিমিটেড জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ এলাকায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ শুরু করে গত বছর শেষ করে। তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদের প্রতিকক্ষের আয়তল ৫৭৫৫ বর্গফুট।