নার্সিং প্রশিক্ষণের নামে চলছে প্রতারণা

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জ উপজেলায় সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বেকার যুবতীদের প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে ফাঁদ পেতেছে একটি চক্র। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুমতি ছাড়াই প্রিয়জন কেয়ার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট অব জামালগঞ্জ নামে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হয়েছে। আকর্ষণীয় লিফলেট, পোস্টার ও ব্যানার ছাপিয়ে চালানো হচ্ছে ব্যাপক প্রচারণা। এ পর্যন্ত ঊনিশ জন শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা ও কোর্স ফি পঞ্চাশ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সিও মো. জয়নাল আবেদীন। অবিলম্বে এই ভুয়া প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় নিরীহ অনেক দরিদ্র পরিবার ঠকবে।
জানা যায়, ৯টি প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির কথা বলে প্রতিশিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ৫৫ হাজার টাকা করে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে ঢাকা মিরপুর শাখার পরিচালিত নিবন্ধন ব্যবহার করে কেয়ার গিভিং কোর্সে ফাস্ট এইড, ফিজিওথেরাপী, সাইকোলজি, ড্রিমেনশিয়া, নার্সিং, নিউট্রিশন, অটিজম, হাউজ কিপিং, IELTS স্পোকেন ইংলিশ ও বেসিক কম্পিউটার কোর্স প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এছাড়াও প্রশিক্ষণ শেষ করে কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ও জাপানে বিনা খরচে সরকারি ভাবে চাকুরীর বিশাল সুযোগের অফার দেওয়া হয়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে উপজেলা রেস্ট হাউজ সংলগ্ন কাজী ভিলার ২য় তলায় ৩টি কক্ষ ভাড়া নিয়ে অফিস কার্যক্রম চালাচ্ছে। অফিসের প্রথম কক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির নামসহ উদ্বোধনী একটি ব্যানার টাঙানো রয়েছে।
প্রিয়জন কেয়ার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট অব জামালগঞ্জের সিও মো. জয়নাল আবেদীন জানান, তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলেন, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আসলে এটা কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন তাই কাউকে জানানো হয় নাই। ২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলে আমরা জামালগঞ্জের শাখা অফিসের জন্য আবেদন করব।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ^জিত দেব বললেন, আমার কাছে তারা এসেছিল। আমি তাদেরকে বলেছি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুমোদন নেওয়ার জন্য। ঢাকা মিরপুরের নিবন্ধন দিয়ে জামালগঞ্জে ইনস্টিটিউট চলতে পারে না। আমি এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে বলেছি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল-আজাদ বললেন, আমাকে উদ্বোধনের জন্য দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখি তাদের কোন কাগজপত্র নেই। আমি তাদেরকে বলেছি, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করার জন্য। এরপর তারা আমার সাথে যোগাযোগ করে নাই। উদ্বোধনী ব্যানারে আমার নাম ব্যবহার করে যদি শিক্ষার্থীদের প্রতারিত করে থাকে তাহলে তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।