নিখোঁজের ছয় মাস পরও সন্ধান মেলেনি এসএসসি পরীক্ষার্থীর

স্টাফ রিপোর্টার
নিখোঁজের ছয় মাস পরও মেয়েটির (এসএসসি পরীক্ষার্থী) সন্ধান না পেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন মা। মায়ের আশঙ্কা মেয়েটি পাচারকারী চক্রের কবলে পড়েছে। হতভাগা মা যাকেই সামনে পান, কান্নকাটি করে মেয়েকে খুঁজে দেবার আবদার করেন। শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বাবনগাঁওয়ের সুমিরুন বেগম এর অবস্থা এখন এরকম।
শান্তিগঞ্জের পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও এমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ¯িœগ্ধা আক্তার (ছদ্ম নাম) গত ১০ এপ্রিল বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর দুইটায় অন্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরলেও সে না ফেরায় তার ভাই আল মিরাজ স্কুলে যান। সেখানে গিয়ে আলমিরাজ জানতে পারেন, স্কুল ছুটি হয়েছে। কেউ স্কুলে নেই। আত্মীয় স্বজনের বাড়ি যোগযোগ করেও মেয়েটিকে না পেয়ে থানায় জিডি করা হয়। এরপর ছয়মাস পার হয়েছে।
ছয় সন্তানের সবার ছোট মেয়েটিকে হারিয়ে মা পাগল প্রায়। যাকেই সামনে পান, মেয়েকে খুঁজে দেবার অনুরোধ জানান।
বৃহস্পতিবার সকালে এ প্রতিবেদককে ফোন দিয়ে সুমিরুন বেগম বলেন, আমার মেয়েটি কোন ছেলের সঙ্গে গেলেও তো আমি খোঁজ জানতাম, কেউতো তাকে খুঁজে দিতে পারছে না। সকলে বলে, মেয়েদের পাঁচার করার জন্য কাজ করে কিছু মানুষ, সন্দেহ হচ্ছে আমার মেয়ের ক্ষেত্রে এরকম একটা কিছু হয়েছে কি-না।
ভাই আলমিরাজ বললেন, পুলিশের সঙ্গে নিয়মিতই কথা বলছি। তারা বোনের কোন সন্ধান দিতে পারছে না।
বীরগাঁও এমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজ মিয়া বললেন, মেয়েটি শান্ত প্রকৃতির ছিলো। নিয়মিত দেড় কিলোমিটার পায়ে হেঁটে স্কুলে আসতো। স্কুল ফাঁকি দেবার চেষ্টা ছিল না তার। এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবার প্রস্তুতি নেবার সময় এমন অঘটন ঘটে। স্কুলড্রেস পরে বই-খাতা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরুলেও ওইদিন স্কুলে আসা হয় নি তার। মেয়েটি পরীক্ষায় অংশ নিলে ভালোভাবেই পাস করতো বলে জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দিদারুল হক দিদার বললেন, পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সকলেই যার যার মতো করে মেয়েটিকে খুঁজছেন। পুলিশকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কোন সন্ধান মিলছে। মেয়েটি প্রেম করে কারো সঙ্গে গেলে, তিনদিনেই খোঁজ মিলতো।
শান্তিগঞ্জ থানার সাবইন্সপেক্টর আবু বকর বললেন, আমরা চেষ্টা করছি। বুধবারও মেয়েটির ভাইয়ের সঙ্গে এই নিয়ে কথা হয়েছে। পরিবারের লোকজনও কোন ক্লো জানিয়ে সহায়তা করতে পারছেন না। এর আগে আরও দুইজন সাবইন্সপেক্টর তদন্তের কাজ করেছেন। মেয়েটির কাছে কোন ফোন ছিল না। তার মায়ের মোবাইলের কললিস্ট যাচাই করা হয়েছে। কোন ক্লো পাওয়া যায় নি। পাঁচার হয়েছে কি-না ধারণা করে বলা ঠিক হবে না। পুলিশ চেষ্টা করছে, দেখা যাক কি হয়।