নিজস্ব ক্ষমতায় সিলেটে যেসব প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন এমএ মান্নান

সু.খবর ডেস্ক
জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ ৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এম এ মান্নান। তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য এই আড়াই বছর নিজ ক্ষমতায় বেশ কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি এম এ মান্নান পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ায় এসব প্রকল্পের মধ্যে যেগুলো ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি বা জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে, সেগুলোকে গণনায় রাখা হয়নি।
পরিকল্পনামন্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতায় নেয়া প্রকল্পগুলো- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘হাওড় এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইমামদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম’ প্রকল্প, বাংলাদেশ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের ‘সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প, বস্ত্র অধিদফতরের ‘আজিজুননেসা টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ডুংরিয়া, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ’ প্রকল্প, বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘সুনামগঞ্জ জেলা সদরে রেলওয়ে সংযোগের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন’ প্রকল্প, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ‘সুনামগঞ্জে পৌরসভার সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্প, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ‘সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ‘সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ‘সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প, ‘সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প।
এর বাইরে ‘কুলাউড়া ও গোপালগঞ্জ পৌরসভার পানি সরবরাহ ও এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতিকরণ’ প্রকল্প, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ‘টিসিবির আপদকালীন মজুদ দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের জন্য গুদাম নির্মাণ’ প্রকল্পটি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বন অধিদফতরের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, মৌলভীবাজার স্থাপনে সম্ভাব্যতা যাচাই ও মাস্টারপ্ল্যান যাচাই’ প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে খরচ করা হচ্ছে ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ বন অধিদফতরের ‘মাধবকুণ্ড ইকো পার্কে ক্যাবল কার স্থাপনে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন’ প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে খরচ করা হচ্ছে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘সুনামগঞ্জ জেলা সদরে রেলওয়ে সংযোগের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন’ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে খরচ করা হচ্ছে ৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ‘সুনামগঞ্জে পৌরসভার সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে খরচ করা হচ্ছে ৪৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ‘সিলেট মহানগরীর নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের জন্য আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সরবরাহ শীর্ষক’ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে ৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ‘সাম্প্রতিক বন্যায় (২০১৮) সিলেট মহানগরীর ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও ফুটপাত সংস্কার শীর্ষক’ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে ৪৬ কোটি ২ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ‘সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে ৪৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ‘সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে ৪৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ‘কুলাউড়া ও গোপালগঞ্জ পৌরসভার পানি সরবরাহ ও এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতিকরণ’ প্রকল্পটি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ৪৬ কোটি ৮ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সমাজসেবা অধিদফতরের ‘কিডনি হাসপাতাল স্থাপন, সিলেট’ প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে ২৫ কোটি টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সিলেটের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দিনাজপুরের সিনথেটিক হকিট টার্ফ স্থাপন’ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে ৩৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের ‘সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পটি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ৪৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বস্ত্র অধিদফতরের ‘আজিজুননেসা টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ডুংরিয়া, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ’ প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে ২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র পরিকল্পনামন্ত্রীই নিজ ক্ষমতায় ৫০ কোটি টাকা নিচের প্রকল্প অনুমোদন দিতে পারেন। পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন দেয়ার পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভাকে অবহিত করলেই চলে। সরকারের অন্যকোনো মন্ত্রীর এককভাবে এভাবে প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা নেই। অন্যান্য মন্ত্রী বা তার মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করতে চাইলে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখানে যাচাই-বাছাই হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা সেই প্রকল্প অনুমোদন দেয়। এই একক ক্ষমতাবলে প্রায় আড়াই বছরে পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে এম এ মান্নান নিজ ক্ষমতায় ৫০ কোটি টাকার নিচে এসব প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন।
সূত্র : সিলেটভয়েস