নির্বাচনী বিরিয়ানি বিক্রির ধুম

জগন্নাথপু অফিস
জগন্নাথপুরে নির্বাচনী বিরিয়ানি বিক্রির ধুম পড়েছিল বৃহস্পতিবার। শহরের সবকটি রেস্তোরায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিরিয়ানি বিক্রির হিড়িক পড়ে। শহরের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। দুপুর ১২টা দেখা যায়, শহরের পৌর পয়েন্টস্থ মাহিমা রেস্টুরেন্টে উপচে পড়া ক্রেতাদের ভিড়। কয়েকজন চেয়ারম্যান ও মেম্বারপ্রার্থী তাদের কর্মী, সমর্থকদের জন্য বিরিয়ানি কিনছেন। অর্ডার পাওয়ার পর বিরিয়ানির প্যাক তৈরী করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্টের দায়িত্বরত কর্মকর্তা, কর্মচারিরা প্রচ- ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই চিত্র দেখা গেল শহরের মিতালি, তালুকদার গ্রীল এন্ড রেস্টুরেন্টসহ শহরের প্রায় সবকটি হোটেল-রেস্তেুারায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল থেকে দিনভর নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে শ’শ’ কর্মী, সমর্থক এসেছেন মনোনয়ন দাখিলের জন্য। মনোনয়নপত্র দাখিল সম্পন্নের পর অধিকাংশ প্রার্থী তাদের সমর্থকদের জন্য বিরিয়ানির আয়োজন করেন। প্রচ- ভিড়ে যারা রেস্টুরেন্টে বসার জায়গা পাননি তাদের জন্য রেস্তেুারা থেকে বিরিয়ানি কিনে অন্যত্র খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অনেকে অগ্রিম বিরিয়ানির অর্ডার দেন। অর্ডার অনুয়ায়ি বিরিয়ানি সরবরাহ করা হয়।
শহরের পৌর পয়েন্টস্থ মাহিমা রেস্টুরেন্টের মালিক মকবুল হোসেন ভূঁইয়া জানান, জগন্নাথপুরর প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের দিন শহরে প্রার্থী সমর্থকদের ঢল নামে। মনোনয়ন দাখিল শেষ হয়ে গেলে, প্রার্থীরা তাদের সঙ্গে আসা লোকজনের জন্য বিরিয়ানির আয়োজন করেন। অনেকে অগ্রিম অর্ডার দেন। আমরা অর্ডার অনুয়ায়ি বিরিয়ানি ডেলিভারি করি। অন্য কোনো দিন এতো বিরিয়ানি বিক্রি হয় না।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক ফোরামের নেতা রুমানুল হক বলেন, মনোনয়ন দাখিলের দিন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তেুারায় প্রার্থীর পক্ষের সমর্থকদের ঢল নামে। হাজার, হাজার টাকার বিরিয়ানিসহ নানান ধরনের খাবার বিক্রি হয়। এতে আচারণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চেয়ারম্যান প্রার্থী জানালেন, মনোনয়ন দাখিলের উৎসবে লোকজন ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সদরে ছুটে আসেন। তাই তাদেরকে একটু খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং অফিসার মুজিবুর রহমান জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য আমরা প্রার্থীকে বলেছি।