নির্মাণ কাজ শেষ হলো না এই বিজয় মাসে

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জামালগঞ্জের সাচ্না বাজারে পাক সেনাদের গুলিতে নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সিরাজের স্মৃতি রক্ষায় ডিসেম্বরের মধ্যেই স্মৃতিফলক নির্মাণ করার কথা ছিলো, কিন্তু সেটি শেষ করা যায় নি এই বিজয় মাসে।
জামালগঞ্জের সাচনার লামাবাজারে শহীদ সিরাজের গুলিবিদ্ধ স্থানের শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, মিনারের দক্ষিণ পাশে ইট-সিমেন্টের অর্ধনির্মিত একটি স্তম্ভ কোনরকম দাঁড় করানো হয়েছে। এর নীচে পড়ে আছে কয়েকটি নতুন টাইলস। গত প্রায় ১৫ দিন ধরে এটুকু পর্যন্তই আটকে আছে কাজ। এমনকি দ্রুত কাজ সম্পন্নের কোন আলামতও চোখে পড়েনি। আর একদিন পর শেষ হচ্ছে বিজয়ের ডিসেম্বর মাস। নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ সিরাজকে পরিচয় করিয়ে দেবার উদ্যোগের মন্তর গতিতে ক্ষুব্ধ অনেকে।
করা হবে। গত বছরের ৪ অক্টোবর সাচ্না বাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সিরাজের গুলিবিদ্ধ স্থান পরিদর্শনে এসে এই বিজয়ের মাসেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সিরাজের শেষ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন জেলা মুক্তি সংগ্রাম স্মৃতি ট্রাস্টের সদস্য সচিব অ্যাড. সালেহ আহমেদ, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আলী আমজাদ, অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. নূরুল মুমিনসহ অনেকে। জানা যায়, শহীদ সিরাজুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ১৩ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার ছিলনী গ্রামের মৃত মুক্তুল হোসেন ও মাতা মৃত গফুরুন্নেসার কোলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে এপ্রিলের মাঝামাঝি মেঘালয়ের ইকুয়ানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে ৫নম্বর সেক্টরের টেকেরঘাট সাব সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে ৭ আগস্ট সাচনা-জামালগঞ্জ যুদ্ধে সাচনার লামা বাজারে তার নেতৃত্বে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে মরণপণ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে বিজয় অর্জিত হলেও পাঞ্জাবীদের কাভারিং ফায়ারে তিনি শহীদ হন।
এ নিয়ে কমরেড বরুণ রায় স্মৃতি পরিষদের সহ সভাপতি মো. আলী আমজাদ বলেন, একজন খেতাবপ্রাপ্ত শহীদের স্মৃতি স্মারক প্রতিশ্রুতির এক বছরেও নির্মাণ না হওয়াটা দুঃখজনক। সাচনা বাজারের এই স্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছেন এটা বর্তমান প্রজন্ম জানেই না। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানাতে ঐতিহাসিক স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে দ্রুত স্মৃতি স্থাপনা নির্মাণ করা জরুরি।
জামালগঞ্জে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমা-ের সাবেক কমা-ার অ্যাড. আসাদ উল্লাহ সরকার বলেন, এইখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শহীদ হয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটুকু যদি সংরক্ষণ করা না হয়, তাহলে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানবে কী করে। আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চাই, শহীদ সিরাজের নামে দ্রুত স্মৃতি স্মারক নির্মাণ করে তাঁর বীরত্বের কথা জানিয়ে দেওয়া হোক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, ওই স্মৃতিফলকের ডিজাইন নিয়ে একটু সমস্যা ছিল। এখন ডিজাইন ফাইনাল হয়ে গেছে। সবকিছুই চলে আসছে আগামীকালের মধ্যে কাজ শুরু করে দ্রুতই কাজ শেষ করা হবে।