নিষিদ্ধ পল্লীতে মেয়ে পাচার/ এই ধরনের গুরুতর অপরাধপ্রবণতার কঠোর বিচার হওয়া উচিৎ

এই ধরনের জঘন্য ও ঘৃণ্য অপরাধপ্রবণতার খবর এর আগে জেলার কোথাও পাওয়া যায়নি। জেলার অপরাধপ্রবণতায় এটি নতুন এক মাত্রার পরিচায়ক। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের একটি উচ্চ বিদ্যাালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী এক নারীকে গত ১০ এপ্রিল বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে অজ্ঞান করে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর তাকে বিভিন্ন জায়গায় রেখে অবশেষে নারায়ণগঞ্জের নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি করে দেয়া হয়। নিষিদ্ধ পল্লীতে মেয়েটি কয়েক মাস নির্মম যৌন বাণিজ্যের শিকার হয়। পরে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মেয়েটি পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। অপহরণকারীদের একজন স্থানীয় বাসিন্দা কারচালক লায়েছ মিয়ার নাম বলতে পেরেছি মেয়েটি। আর কাউকে চিনতে পারেনি সে। জেলায় নানামুখী অপরাধ প্রবণতার বহু খবর পাওয়া গেলেও নিষিদ্ধ পল্লীতে নারী পাচারের কোনো খবর এ যাবৎ পাওয়া যায়নি। তাই শান্তিগঞ্জের ওই মেয়ের অভিযোগটি অপরাধের এক ভয়াবহ দিক সম্পর্কে আমাদের ধারণা দিলো। বিষয়টির উপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্ব সহকারে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। এ ঘটনায় মেয়েটির অভিভাবকরা এখনও থানায় কোনো মামলা দায়ের করেনি। তারা জানিয়েছেন টাকার ব্যবস্থা হলে আদালতে মামলা দায়ের করবেন। কিন্তু এরকম একটি ঘটনা যা অভূতপূর্ব, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের পর্যন্ত অপেক্ষা করা সমীচীন হবে না বলে আমরা মনে করি। এ ঘটানর আদ্যোপান্ত জরুরিভাবে অনুসন্ধান করে কথিত নারী পাচারচক্রের মূল শুদ্ধু উপড়ে ফেলার ব্যবস্থা করা উচিৎ ।
শান্তিগঞ্জ থানার ওসি বলেছেন, মেয়েটির পরিবার এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করতে নারাজ। অপহৃতা মেয়ের পরিবার থেকে প্রথমে থানায় জিডি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে ওসি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত লায়েছ মিয়াকে থানায় ডেকে নেয়া হয়েছিল বলে সংবাদ তথ্য সূত্রে জানা যায়। কিন্তু তাকে আইনের আওতায় নেয়া হয়নি। বিষয়টি আমাদের বিস্মিত করেছে। নির্যাতিতা মেয়ে ও তার ভাই যেখানে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানাতে দ্বিধা করেননি সেখানে কেন তারা এ বিষয়ে মামলা করবেন না তার কোনো উত্তর আমাদের জানা নেই। জিডি করার পর সেটি আবার প্রত্যাহার করে নেয়ার পিছনে কোন্ অসহায়ত্ব তাদের গ্রাস করেছিলো তাও সকলের কাছে অজানা। যদি লাজ লজ্জার ভয়ে তারা বিষয়টি গোপন রাখতে চাইতেন তাহলে গণমাধ্যমে মুখ খোলতেন না কখনও। এসব ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলে সাধারণত দুর্বল প্রকৃতির নির্যাতিত ব্যক্তি ও পরিবার সবল অপরাধীর প্রভাবের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। নির্যাতিতরা ভয়-ভীতির কারণে অনেক সময় প্রকৃত সত্য জানানো ও মামলা মোকদ্দমায় যেতে চান না। আলোচ্য ক্ষেত্রে এরকম কোনো চাপ রয়েছে কিনা তা অনুসন্ধান করা জরুরি। বিশেষ করে নিষিদ্ধ পল্লীতে নারী পাচারের মতো চরম আতংকজনক একটি খবর পাওয়া সত্বেও থানা পুলিশ কেন এর অনুসন্ধান কাজকে এগিয়ে নিলেন না সেটিও আমাদের প্রশ্ন বটে।
যাহোক ওই অপহৃতা নারীর গুরুতর অভিযোগটিকে ততোধিক গুরুত্ব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করুক এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক তা আমরা চাই। জেলায় এরকম একটি বিপজ্জনক অপরাধপ্রবণতার অভিযোগ বিনা তৎপরতায় চাপা পড়ে যাক সেটি আমাদের কাম্য নয়। কারণ এরকম হলে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর যদি এ ঘটনায় অন্য কারও কোনো উদ্দেশ্য বা অভিসন্ধি থেকে থাকে তবে তাও প্রকাশিত হওয়া দরকার।