নৌ-পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
নৌ-পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মো. রকিবুল ইসলাম নামের ওই কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার টুকেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন। জেলার সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বালু-পাথর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০০ লোকের স্বাক্ষর করা একটি লিখিত অভিযোগ রোববার নৌ পুলিশের মহাপরিচালকের কাছে দেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, এসআই রকিবুল ইসলাম সদর উপজেলার সুরমা নদীর তীরবর্তী টুকেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদানের পর থেকে সুরমা ও চলতি নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা বালু পাথর ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমিকদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে চাঁদা আদায় করছেন। তিনি চাহিদা মতো টাকা না দিলে লোকজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ভীতি দেখান। সুরমা ও চলতি নদীর তীরে বৈধভাবে স্তুপ করে রাখা ব্যবসায়ীদের বালু পাথর ক্রয়-বিক্রয় এবং নৌযানে তুলতে গেলেও তাকে টাকা দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা তার কাছে রসিদ চাইলে তিনি নানাভাবে হুমকি দেন। তার ভয়ে এখন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা অতিষ্ট। এসবের প্রতিবাদ করায় তিনি নিরিহ মানুষদের মামলা দিয়ে হয়রানি করেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের গোয়াইনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জুলহাস মিয়া, জিনারপুর গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওই কর্মকর্তার হয়রানির কারণে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা এখন ভয়ে আছেন। তারা নির্বিঘেœ ব্যবসা করতে পারছেন না। তিনি মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করেন। এমনও লোক আছে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নেই, তবুও তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এখন বাধ্য হয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ করেছি। তারা ডাকযোগে এই অভিযোগ পাঠিয়েছেন বলেন জানান। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে টুকেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. রকিবুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে চলতি নদী বালু মহাল ইজারাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। তার পরও কিছু লোক দিনেরাতে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন করছে। আমি এসবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় কিছু লোক ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে নানা কথা বলছে, যার কোনা ভিত্তি নেই।