পথশিশু রসুল যখন স্বপ্ন দেখে

স্টাফ রিপোর্টার
১৪ বছর বয়সি শিশু গোলাম রসুল। একসময় বস্তা হাতে নিয়ে পথে পথে প্লাস্টিকের বোতল খুঁটে বিক্রি করতো, গাঁজা খাওয়া থেকে শুরু করে নানা ধরণের নেশাও করতো সে। এখন শহরে রিক্সা চালায়, দরাজ কণ্ঠে পথে গান ধরে। পাগল মাসহ তিন ভাই- বোনের সংসার চালায় সে। গোলাম রসুল বললো, একটি রিক্সা পেলেই পরিবার-পরিজনসহ ভালোভাবে বেঁচে থাকতো সে।
মাত্র ২ বছর বয়সে বাবা সেজলু মিয়াকে হারায় গোলাম রসুল (৬০) মা জাহিরুন বেগম পাগল হয়ে যান। তিন ভাই- বোনের সবার ছোট রসুল শহরে দিনে প্লাস্টিকের বোতল কুড়াতো, রাতে শহরের পুরাতন কোর্টের বারান্দায় ঘুমাতো। গাঁজা খাওয়া থেকে সবধরণের নেশাই করতো সে।

অসুস্থ মায়ের সঙ্গে গোলাম রসুল

একসময় শহরের সামাজিক সংগঠন স্বপ্নডানার সংগঠক তাকে সংগঠনে যুক্ত করে নানাভাবে উৎসাহ দেন, অক্ষর জ্ঞান দেওয়া থেকে শুরু করে তাকে ভালভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখান। এক পর্যায়ে নেশা খাওয়াও ছেড়ে দেয় সে। এরপর একটি দোকানে চাকুরি নেয়। কিন্তু দোকানে পাওয়া বেতনে সংসার চালানো কষ্ট হওয়ায় চাকুরি ছেড়ে রিক্সা চালানো শুরু করে রসুল। রসুলের গানের কণ্ঠ অতি চমৎকার। এজন্য পরিচিত যাত্রীরা তাকে দেখলে তার রিক্সায় ওঠেন, দরাজ গলায় গানও শুনেন, বাড়তি কটি টাকাও তুলে দেন। সকলের স্নেহে মমতায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মল্লিকপুরে থাকে এক সুবিধা বঞ্চিত শিশুটি। সরকারি একটি পরিত্যক্ত ঘরে অনুমতি নিয়ে থাকছে রসুল ও তার পরিবার । রসুল বললো, ভাড়ায় রিক্সা চালিয়ে পুষায় না, একটি রিক্সা পেলে ভাল চলতো তার।
সামাজিক সংগঠন স্বপ্নডানা’র চেয়ারম্যান সংস্কৃতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গোলাম রসুলের মতো শিশুদের সমাজের বুঝা মনে না করে মমতা দিয়ে একটু সহায়ত করলেই সুন্দর ভবিষৎ গড়ার স্বপ্ন দেখবে এরা।
জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বাদল চন্দ বর্মন বললেন, বিশ্ব শিশু দিবসে আমরা গোলাম রসুলদের মতো সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করে থাকি। এবছরও করবো। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ পথশিশুদের ¯েœহ করলে গোলাম রসুলের মতোই পথভ্রষ্টরা ভালো পথে চলে আসবে।