‘পদ পাবেন না বিদ্রোহীরা’

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে ১২ উপজেলার মধ্যে দশ উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে হবে। আগামী দশ নভেম্বর থেকেই সম্মেলন শুরু হবে। সম্মেলনের আলোচনা শুরু হতেই উপজেলা কমিটির সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত হবার আগেই নেতৃত্ব পেতে আগ্রহীরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। তবে গেল ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে হওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীরা কমিটির দায়িত্বশীল পদে ঠাই পাবেন না, এখনো (রোববার পর্যন্ত) পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত অনুসারেই চিন্তা করছেন জেলা নেতারা। দায়িত্বশীলরা বলেছেন, দলের বিদ্রোহীদের কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে এই বিষয়ে লিখিত কোন নির্দেশনা এখনো পান নি তাঁরা।
দলীয় দায়িত্বশীলরা জানান, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে সুনামগঞ্জের নয় উপজেলার সম্মেলন শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা। কেবল বিশ^ম্ভরপুর ও মধ্যনগরের সম্মেলন আপাতত হচ্ছে না। এই দুই উপজেলায় সম্মেলন করে কমিটি হয়েছে ২০১৯ সালের ৮ ও ১০ নভেম্বর।
সম্মেলন ঘোষণা হতেই সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আবুল কালাম, জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি সুবীর তালুকদার বাপ্টু, মোবারক হোসেন ও প্রদীপ পাল নিতাই এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ঝুটন পুরকায়স্থ, সবুজ কান্তি দাস, জাকির হোসেন শাহীন, অ্যাড. শামীম আহমদ ও বকুল তালুকদারের নাম আলোচনায় আছে।
তাহিরপুর উপজেলায় সভাপতি পদে আবুল হোসেন খান ও মোতাহার হোসেন আখঞ্জি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অমল কর ও সেলিম আহমদকে নিয়ে দায়িত্বশীলদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
জামালগঞ্জ উপজেলায় সভাপতি পদে মোহাম্মদ আলী, মুকিত চৌধুরী ও নবী হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ইকবাল আল আজাদ ও মিসবাহ্ উদ্দিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
ধর্মপাশায় বর্তমান সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল হাই ও শামীম আহমদ বিলকিস এবং সাধারণ সম্পাদক পদে শামীম আহমদ মুরাদ ও মোজাম্মেল হোসেন রুকনের নাম আলোচনায় আছে।
দিরাই উপজেলায় সভাপতি পদে আলতাব উদ্দিন, অ্যাড, সুহেল আহমদ, মোশারফ মিয়া ও আজিজুর রহমান বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রদীপ রায়, অ্যাড. আজাদুল ইসলাম রতন, ইয়াওর মিয়া ও অ্যাড. অভিরাম তালুকদারের নাম আলোচনায় আছে।
শাল্লা উপজেলায় অলিউল হক, আলামিন চৌধুরী, আব্দুস ছাত্তারের নাম সভাপতি পদে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল লেইছ চৌধুরী ও দীপু রঞ্জন দাসের নাম আলোচনায় রয়েছে।
ছাতক উপজেলায় সভাপতি পদে ফজলুর রহমান, আব্দুল ওয়াহিদ মজনু ও আজমল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাত লাহীন এবং ছাতক পৌরসভায় সভাপতি পদে আব্দুল ওয়াহিদ মজনু, জয়নাল আবেদীন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে তাপস চৌধুরী’র নাম আলোচনায় আছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় সভাপতি পদে ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক, ফরিদ আহমেদ তারেক ও শামীমুল ইসলাম, এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল খালিক ও হাবিবুর রহমান শেখ চানের নাম আলোচনায় আছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সভাপতি পদে আতাউর রহমান, রেজাউল আলম নিক্কু, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, অ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে হাসনাত হোসাইন, মাসুদ মিয়া, ইকবাল হোসেন ও ওবায়দুর রহমান কুবাদের নাম আলোচনায় আছে।
জগন্নাথপুর উপজেলায় সভাপতি পদে আকমল হোসেন, আকমল খাঁন, রেজাউল করিম রিজু, নুরুল ইসলাম ও হারুন রাশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মিজানুর রশিদ ভুইয়া, আবুল হাসান, সিরাজ উদ্দিন মাস্টার ও মিন্টু রঞ্জন ধরের নাম আলোচনায় আছে।
অবশ্য স্থানীয় নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নমনিয় হলে বেশিরভাগ উপজেলায়ই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীর সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।
জেলা আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলগণ শনিবারও জানিয়েছেন স্থানীয় নির্বাচনে বিদ্রোহীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখার চিন্তা করা যাবে না। তবে এই বিষয়ে লিখিত কিছুই জানানো হয় নি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সুনামগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আহমদ হোসেন জানালেন, সুনামগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলাগুলোর সম্মেলন করতে হবে। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে সকল উপজেলায় সম্মেলন হবে। এই সপ্তাহেই উপজেলা সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত হবে বলে জানান তিনি।