পদ বাগাতে ৫ নেতার দৌঁড়ঝাঁপ

বিশেষ প্রতিনিধি
কমিটি গঠনের এক মাস নয় দিনের মাথায় সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি মৃত্যুবরণ করেছেন। সভাপতির এই পদ ভাগাতে পাঁচ আগ্রহী নেতার দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে। দায়িত্বশীলরাও পদ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করায় স্থানীয় নেতা কর্মীরা ধু¤্রজালে পড়েছেন।
পরিকল্পনা এমএ মান্নান এমপি’র নির্বাচনী এলাকার বড় উপজেলা জগন্নাথপুর। প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ ও সাবেক এমপি মরহুম আব্দুর রইছ এঁর বাড়িও ছিল এই উপজেলায়। এখানকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন জগন্নাথপুরের আওয়ামী লীগ নেতারা। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত এই উপজেলায় গত ১৬ নভেম্বরের সম্মেলনে সভাপতি হয়েছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আকমল হোসেন। আকমল হোসেন গত ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সন্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ২৬ ডিসেম্বর মারা যান তিনি। বর্ণাঢ্য রাজনীতিক ছিলেন আকমল হোসেন। দুই বার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও দুই বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন আকমল হোসেন।
তিনি ২০১৪ সালের উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও সভাপতি হয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি কে হবেন, এই আলোচনা গত কয়েকদিন ধরেই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মীদের মুখে মুখে আলোচনা রয়েছে।
গত ১৬ নভেম্বরের উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে আওয়ামী লীগের তখনকার কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন চারটি পদের নাম ঘোষণা করেছিলেন। সভাপতি পদে আকমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, সহসভাপতি মিজানুর রশিদ ভূইয়া ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান।
সভাপতি পদে শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ায় এখানে আগ্রহী পাঁচ নেতা ও তাদের সমর্থকরা পদ বাগাতে দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সহসভাপতি মিজানুর রশিদ ভূইয়া, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবেক সহসভাপতি আকমল খান, পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. আব্দুল আহাদ ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবেক সহসভাপতি সিরাজুল হক।
বর্তমান চার সদস্যের কমিটির সহসভাপতি মিজানুর রশিদ ভূইয়া বললেন, আমার বাবা মৃত্যুর পূর্ব সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগের সহসভাপতি এবং জগন্নাথপুর পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। আমাকে ১৬ নভেম্বরের সম্মেলনে সহসভাপতি করা হয়। যেহেতু আর কোন সহসভাপতি করা হয় নি, আমিই সিনিয়র সহসভাপতি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমি এখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। সকলে সহযোগিতা করলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে এই কমিটির নেতৃত্বে কাজ করেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম বললেন, দলকে শক্তিশালী করতে পেশাদার রাজনীতিকের বিকল্প নাই। রাজনীতি ছাড়া অন্য কিছুই করি না আমি। পদে থাকলেও আছি, না থাকলেও আছি। তবে কার্যকরি কমিটি হোক চাই আমরা।
সাবেক সহসভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক বললেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দ্রুত নতুন কমিটি করে কমিটি কার্যকরি করা জরুরি। গঠনতন্ত্রের পরিস্কার ব্যাখ্যা না থাকলে কর্মীরা বিভ্রান্ত হবে। জেলা কমিটি বা কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলগণ দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আশা করছি আমরা।
ডা. আব্দুল আহাদ বললেন, আমি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। কেউ কেউ আমাকে উপজেলায় সভাপতি হিসেবে চিন্তা করছেন। আমাকে দায়িত্ব দিলে যথাসাধ্য পালনের চেষ্টা করবো। আমি উপজেলা সভাপতি হবার জন্য অসুস্থ্য প্রতিযোগিতায় যাব না।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, জগন্নাথপুর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তাগাদা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক। গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় সম্মেলন শেষে সভাপতি, একজন সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং একজন যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির শূন্যতায় সহসভাপতি মিজানুর রশিদ ভূইয়াই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি থাকবেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বললেন, সভাপতি আকস্মিক মারা গেছেন। আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন সহ সকলের সঙ্গে কথা বলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে সভাপতির দায়িত্ব দেব।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন বললেন, সভাপতির শূন্যতায় সহসভাপতি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত তিনিই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি থাকবেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটিও দ্রতই করতে হবে।