পরস্পরকে সরকারের দালাল বললেন দুই গ্রুপের নেতারা

বিশেষ প্রতিনিধি
দিরাইয়ে বিএনপির দুই গ্রুপ বুধবার বেলা ১১টায় একই সময়ে একই এলাকায় পাল্টাপাল্টি সভা আহ্বান করে। একারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান কর্মসূচি বাতিল করেছেন। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন সকাল ১০টা থেকে পৌর এলাকার বাগানবাড়ী ও এর আশপাশের এলাকায় রাত ১০টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারী করেছে।
২০০১ সাল থেকেই দিরাই বিএনপিতে কোন্দল সৃৃষ্টি হয়। জাতীয় পার্টির ডাক সাইটে নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরী তার অনুসারী নেতা কর্মীসহ বিএনপিতে যোগদান করলে স্থানীয় বিএনপিতে দুটি ধারার সৃষ্টি হয়। একাংশের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুশ শহীদ চৌধুরী। অপরাংশের নেতা ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। আব্দুশ শহীদ চৌধুরীর সমর্থকরা একসময় নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলয়ের প্রভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়ে। দলে একচ্ছত্র আধিপত্য চলে আসে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর। আব্দুশ শহীদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে অ্যাড. তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলের নেতৃত্বে আবার এই অংশের নেতা কর্মীরা সক্রিয় হয়। গত এক বছরে এই দুই গ্রুপ কয়েকবার উপজেলা সদরের কর্মসূচিতে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে। বুধবার আব্দুশ শহীদ চৌধুরী’র পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অ্যাড. তাহির রায়হান চৌধুরী’র সমর্থকরা স্মরণসভা ও দোয়া মাহ্ফিল এবং দিরাই-শাল্লার কিছু কৃষকদের মধ্যে বীজ বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেয়।
দিরাই উপজেলা সদরের বাগানবাড়ী কমিউনিটি সেন্টারে বুধবার সকালে স¥রণসভা ও দোয়া মাহ্ফিল এবং শ্যামারচর বাজারে দুপুরে বীজ বিতরণ হবার কথা ছিল। দুই কর্মসূচিতেই বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়।
গেল তিনদিন ধরে উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে এই নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। উপজেলা সদরে এই কর্মসূচির কোন মাইকিং না হলেও মুখে মুখে প্রথমে প্রচার ছিল আব্দুশ শহীদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভায় নজরুল ইসলাম খান আসবেন। পরে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থকরা জানতে পারে নজরুল ইসলাম খান কৃষকদের মধ্যে বীজ বিতরণও করবেন। এই খবর জেনে দিরাই উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়। তারা বাগানবাড়ী কমিউিনিটি সেন্টারের পাশেই দিরাই শহরের প্রবেশমুখের সড়কে দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বুধবার সকাল ১০টায় বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করে। দুই দিন আগে থেকে মাইকে এই কর্মসূচির প্রচারণা চালানো হয়।
বিএনপির একাংশের নেতা জেলা বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল বলেছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর সমর্থকেরা সরকারের দালালী করছেন। তারা দিরাই-শাল্লায় কৃষকদের বিএনপির পক্ষ থেকে বীজ বিতরণ করতে দেয় নি। উপজেলা বিএনপির তিনবারের সাবেক সভাপতি আব্দুশ শহীদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদ মাহ্ফিলে তারা বাধা প্রদান করেছেন। সরকারের বি-টিম হিসাবে দিরাইয়ে কাজ করছে এরা। ১৪৪ ধারা জারীর কারণে দলীয় নেতা কর্মীরা বাগানবাড়ী কমিউনিটি সেন্টারে কর্মসূচী করতে পারেন নি দাবি করে তিনি জানান, তার বাসভবনেই পরে হাজারো মানুষ সমাবেশে মিলিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে দলীয় চেয়ারপার্সনের মুক্তি দাবি করেছেন তারা।
এই অংশের অপর নেতা হুমায়ুন কবির বললেন, আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পুলিশের সহায়তায় নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র সমর্থকরা করতে দেয় নি। বাগানবাড়ী কমিউনিটি সেন্টারে আব্দুশ শহীদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীর দোয়া মাহ্ফিল শেষ হতে না হতেই পুলিশ এসে জানায়, এখানে ১৪৪ ধারা জারী হয়েছে। কোন আয়োজন করা যাবে না।
সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী বললেন, দিরাই-শাল্লায় আওয়ামী লীগের বি-টিম কারা অতীতের বিভিন্ন সময়ের নির্বাচনেই প্রমাণ হয়েছে। ধানের শীষে ভোট না দিয়ে তাহির রায়হান চৌধুরীরা বার-বারই নৌকায় ভোট দিয়েছেন।
নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র ভাই উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক জানালেন, মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচিতে কেউ বাধা দেয় নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান কৃষকদের মধ্যে বীজ বিতরণ করবেন। এই কর্মসূচির বিষয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কেউ জানবে না, এটি হতে পারে না। এজন্য দিরাই শহরের প্রবেশমুখে বিএনপি প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। এরমধ্যেই প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারী করেছে। একারণে সভা করা যায় নি। নেতা-কর্মীরা উপজেলা সদরে নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র বাড়িতে গিয়ে পরে সভা করেছেন।
দিরাই থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বললেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলামের আগমন উপলক্ষে দলের একপক্ষ বাগানবাড়ী কমিউনিটি সেন্টারে এবং আরেকপক্ষ বাগানবাড়ী কমিউনিটি সেন্টারের সামনের সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। পরে বাগানবাড়ী ও আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারী’র নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ওখানে কাউকে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে দেওয়া হয় নি।