পরিত্যক্ত ঘোষণা হলেও এখনও আছে কিছু ছাত্র

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের কৃষ্ণচন্দ্র স্মৃতি ছাত্রাবাসকে (হিন্দু হোস্টেল) কলেজ প্রশাসন পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই এখানে থাকছে কিছু শিক্ষার্থী। জানা যায়, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের এখন কোন ছাত্রাবাস নেই। শহরের বক পয়েন্টে শহীদ তালেব ছাত্রাবাস ভেঙে ৫ তলা ভবন করে ছাত্রী নিবাস করা হয়েছে।
উকিলপাড়া এলাকার কৃষ্ণচন্দ্র স্মৃতি ছাত্রাবাসটি (হিন্দু হোস্টেল) একেবারেই জরাজীর্ণ। উপরের চাল ও দেয়ালের দরজা জানালা ভেঙে গেছে। বিদ্যুৎ বিল প্রায় ২ লাখ টাকা ও গ্যাস বিল ১০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে।
কলেজ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এই ঘরটি ধসে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য লিখিতভাবে অক্টোবরের ১৯ তারিখ শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ছেড়ে দিতে বলা হয়। হোস্টেল ছাড়ার জন্য তাদেরকে ৭ দিনের সময় দেয়া হয়।
এদিকে, সিলেট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ২৪ অক্টোবর ছাত্রাবাসটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। এসময় ছাত্রাবাসটি অপসারণ করতে কলেজ প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়।
রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রাবাসের অনেক কক্ষ খালি পড়ে আছে। অযতœ অবহেলায় এগুলো আর থাকার উপযোগী নয়। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এবং অন্যত্র গিয়ে ভাড়া দিয়ে থাকার সামর্থ না থাকায় কিছু শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে থাকছে ওখানেই।
জানা যায়, ছাত্রাবাসটিতে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী থাকতেন। কলেজ প্রশাসন ৭ দিনের মধ্যে হোস্টেল ছাড়তে বলায় ২০ জন অন্যত্র চলে গেছেন। বাকী শিক্ষার্থীরা এখানেই আছেন। ছাত্রাবাসের অধিনায়ক দেবাশীষ সরকারের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলেও এখনো তিনি ওখানেই আছেন।
দেবাশীষ বলেন, ছাত্রাবাসের সবার বাইরে মেস করে থাকার মত আর্থিক সার্মথ্য নেই। এজন্য তারা মিলেমিশে এই ভাঙা হোস্টেলেই বাস করে। নতুন ছাত্রাবাসের কাজ শুরু হলে বা এই ঘর ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হলে এখান থেকে সরে যাবে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা ওখানে থাকায় বখাটের আস্তানা হচ্ছে না এই ভাঙা ঘরে।
এখানকার আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা থাকায় এই ছাত্রাবাসের জমি বেহাত হচ্ছে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ শুরু করা পর্যন্ত এর দখল রাখাও জরুরি।
হোস্টেল সুপার সুকুমার দাশ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ছাত্রদের ৭ দিনের মধ্যে ছাত্রাবাস ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। আশা করি ছাত্ররা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই হোস্টেল ছেড়ে দিবে।