পরিবহন চালকেরাই করলেন সড়ক সংস্কার

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
দীর্ঘ বছরে ধরে সংস্কার না করায় এবং গেল বারের কয়েক দফা বন্যায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হলিদাকান্দা সড়ক চলাচলের অনুযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই এখন ভাঙাচোরা। কোথাও কোথাও ভাঙা পাকা এবড়ো থেবড়োভাবে পড়ে আছে। কোথাওবা সড়ক ভেঙে গেছে আবার কোথাও গর্ত। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইটের টুকরো। এতে করে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পরিবহন শ্রমিকসহ স্থানীয়রা সড়কটি সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে বারবার। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্ভোগের মাত্রা বেড়েছে কয়েকগুন। ফলে বুধবার সকাল থেকে এ সড়ক সংস্কার কাজে নেমে পড়েন বাচ্চু মিয়া, পলাশ, হাবি, সবুজ মিয়া, রতন মিয়া, আজাদ মিয়া, কবির মিয়া, মুখলেছ মিয়া, ফারুক, শাহ আলম, বকুলসহ ৩৩ জন পরিবহন চালক। ওইসব চালকেরা এ সড়ক দিয়ে রিকশা, ইজিবাইক, হ্যান্ডট্রলি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা প্রত্যেকেই ওইদিন নিজেদের কাজ বাদ দিয়ে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে সড়কের ভাঙা অংশে রাবিশ (ইটের ছোট ছোট টুকরো ও গুড়া) ও মাটি ফেলেছেন। গেল বছরও চালকেরা যানবাহন চলাচলের জন্য রাবিশ ফেলে সড়ক সংস্কার করেছিলেন।
ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কের হলিদাকান্দা দক্ষিণ জামে মসজিদ সংলগ্ন উত্তর দিকের সড়কটি এলজিইডির অধীনে ৭/৮ বছর আগে এ সড়কের সংস্কার কাজ হয়েছিল। পরে আর কোনো সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বেহাল দশার সৃষ্টি হয়। ফলে হলিদাকান্দা, মগুয়ারচর, নয়াপাড়া, মুরাদপুর, গাফরকান্দা, মহিষের বাতান, লংকাপাথারিয়া, দূর্বাকান্দাসহ ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটি সরু থাকায় দুটি অটোরিকশা পাশাপাশি চলতে পারেনা। পার্শ্ববর্তী হাওরের তুলনায় সড়কটি নিচু থাকায় বর্ষায় সহজেই পানিতে ডুবে যায়। গ্রীষ্মে হাওর থেকে এ সড়ক দিয়ে ধান পরিবহন করতে গিয়ে কৃষকের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
হলিদাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষসহ গর্ভবতী মায়েদের চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই চালকদেরই বাধ্য হয়ে বারবার স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার কাজ করতে হচ্ছে।’
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান বলেন, ‘জনদুর্ভোগ লাঘবে হাওরাঞ্চলে বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প থেকে এ সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই দ্রুত সংস্কার কাজ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘শ্রমিকদের এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কথা বলবো।’