পরিবহন শ্রমিক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের মারামারি

স্টাফ রিপোর্টার
বাস শ্রমিক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ অপুসহ ৩০ জনের উপর দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। রবিবার দুপুরে পরিবহন শ্রমিক নেতা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টায় সুনামগঞ্জ শহরের আব্দুজ জহুর সেতুর উপরে তাহিরপুর থেকে সিলেটগামী একটি পর্যটকবাহী বাস আটকে ভাংচুর ও চালককে মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার কিছুক্ষণ পর বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে পাল্টা হামলা চালায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
তাৎক্ষণিকভাবে পর্যটকবাহী বাসের যাত্রীরা জানিয়ে ছিলেন, তাহিরপুর থেকে আসার সময় বিশ^ম্ভরপুর এলাকায় একটি সিএনজি ওভারটেক করতে চেয়েছিলো, এ নিয়ে সিএনজির যাত্রীদের সঙ্গে বাস চালকের কথা কাটাকাটি হয়। পরে আব্দুজ জহুর সেতুতে বাস আটকে হামলা চালানো হয়। এসময় বাসের চালক আহত হন।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি বুরহান উদ্দিন তাৎক্ষণিকভাবে গণামাধ্যম কর্মীদের বলেছিলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে বাসে হামলা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন ঘটনা হয়। এ ঘটনায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ১২ ঘণ্টা পর পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ অপু বললেন, তাহিরপুর থেকে সিলেটগামী বাস পথে ছাত্রলীগের দুই কর্মীর মোটর সাইকেলে ধাক্কা দেয়। পরে আব্দুজ জহুর সেতুতে বাস শ্রমিক ও ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগে কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। খবর পেয়ে মধ্যস্থতা করে দেবার জন্য আমি ওখানে যাই। ওখানে শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বিএনপি নেতাও রয়েছেন। তারা বিষয়টি ভিন্নখাতে নিয়ে আমাকে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় জড়িয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন জানিয়েছেন, রবিবার দুপুরে সাত জনের নাম উল্লেখ করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় ২০-৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন সিলেটের খাসদবির এলাকার পরিবহন শ্রমিক আব্দুল মতিন। কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায় নি।