পর্বতারোহী আকি রহমানকে স্বাগত/ কার্যকর ও টেকসই সমাজসেবায় এগিয়ে আসতে হবে

আখলাকুর রহমান। কিন্তু আকি রহমান নামেই ব্যাপক পরিচিতি তাঁর। তিনি ইংল্যান্ডে বসবাসরত দ্বিতীয় প্রজন্মের বাঙালি। আকি রহমানের অনন্যতা হলো, তিনি প্রথম ব্রিটিশ মুসলমান হিসাবে এভারেস্ট জয় করেছেন। এ বছরের ১৪ মে তিনি এই অনন্য কাজটি সম্পন্ন করেন। ২০২০ সনে তিনি আফ্রিকা মহাদেশের তানজানিয়ার সবচাইতে উঁচু পর্বত মাউন্ট কিলমানজারো জয় করেন। পরে ফ্রান্সের সবচাইতে উঁচু পর্বত মন্ট ব্লাংক জয়ের সাফল্যও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। মাউন্ট এলব্রস, কালবাদানো-বলকারিয়া জয়ের রেকর্ডও করেছেন তিনি। আমাদের জন্য বিষয়টি সুখ ও আনন্দের এ কারণে যে, দুর্ধর্ষ পর্বতারোহী আকি রহমান সুনামগঞ্জের বাউধরন গ্রামের ছেলে। তাঁর পিতা হাজি ইছকান্দার আলী ইংল্যান্ডে পারি জমিয়েছিলেন। পর্বতারোহণ সর্বদাই ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদসঙ্কুল কাজ। যারা অসীম সাহসের অধিকারী তাঁরাই কেবল এরকম ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কয়েকজন মাউন্ট এভারেস্ট বিজয় করেছেন। নারী এভারেস্ট জয়ীও রয়েছেন আমাদের। এরই মাঝে প্রথম ইংলিশ মুসলমান বাঙালি হিসাবে আকি রহমানের এভারেস্ট জয় অন্য ধরনের বিশিষ্ট আনন্দের উপলক্ষ বটে। ইংল্যান্ডে বাঙালিরা যে কেবল রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করে জীবন ধারণ করেন তা না। বরং রাজনীতি, ক্রিড়া, সাংবাদিকতা ও অন্যান্য জায়গায়ও বাঙালিরা নিজ মেধা বলে এগিয়ে যাচ্ছেন। এই সফল ব্যক্তিরা বিদেশে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছেন। আকি রহমানকে আমাদের অভিনন্দন।
১২ দিনের সফরে পর্বতারোহী আকি রহমান বাংলাদেশে আসছেন বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। ইসলামিক রিলিফ এর আমন্ত্রণে রিলিফ বিতরণ করার জন্য তাঁর এই সফর। এসময় তিনি সুনামগঞ্জ, সিলেট, রংপুর, কক্সবাজার ও জামালপুর জেলায় ত্রাণ বিতরণে অংশ নিবেন। ৬ অক্টোবর তিনি নিজ গ্রাম জগন্নাথপুরের বাউধরনে অবস্থান করবেন। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকা-ে সেলিব্রেটি ইমেজের ব্যক্তিদের ব্যবহার করার ইতিহাস নতুন নয়। বরং তহবিল সংগ্রহ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইমেজ বাড়াতে এইসব সেলিব্রেটিরা ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। আকি রহমান এই মুহূর্তে ইসলামিক রিলিফের পক্ষে দেশে আসছেন। সংগঠনটির কথা আমরা এর আগেও জেনেছি। তারা এলাকায় বেশ কিছু সমাজসেবামূলক তৎপরতা চালান বলে আমরা জেনেছি।
কেবল ত্রাণ দিয়ে ব্যক্তির অভাব দূর করা যায় না, স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা তো আরও কঠিন। ত্রাণ বরং মানুষের সৃজনশীলতাকে নষ্ট করে ভিক্ষাবৃত্তির মানসিকতাকে উসকে দেয়। যারা বিভিন্ন সময়ে ত্রাণ কাজ পরিচালনা করেন, বিশেষ করে ইসলামিক রিলিফ বা এজাতীয় প্রতিষ্ঠান সমূহকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। তারা তো বিদেশ থেকে গরিব মানুষের কল্যাণের কথা বলে তহবিল সংগ্রহ করেন। গরিব মানুষের যথার্থ কল্যাণ যাতে নিশ্চিত করা যায় সে ধরনের কর্মসূচি হাতে নেয়া উচিত। ত্রাণের পরিবর্তে বাছাইকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের আয়প্রবাহ তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। একসাথে টার্গেট গ্রুপের সকলকে পুনর্বাসিত করা যাবে না। এজন্য প্রতিবছরই কিছু কিছু পরিবারকে এ ধরনের সহযোগিতা করা যেতে পারে। এতে করে একটা সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দারিদ্র বিমোচেনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাবে। সেলিব্রেটি আকি রহমান হয়তো বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে তেমন ধারণা রাখেন না। তবে সেলিব্রেটির দায়িত্ববোধ থেকে তাঁকেও এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে হবে। কয়েকটি ক্যামেরা শোর মাধ্যমে কিছু ব্যক্তিকে ত্রাণ বিতরণের নামে এর পিছনে যে বিশাল অংকের টাকা পরিচালনা ব্যয় হিসাবে খরচ করা হয় তা আদতে সমাজের কোনো কল্যাণেই কাজে লাগে না। সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত অর্থেই সমাজসেবী হয়ে উঠুক এই আমাদের কামনা।