পর্যটকবাহী নৌকায় ডাস্টবিন রাখতে হবে-জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপজেলার ট্যাকেরঘাট খনিজ প্রকল্প উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ও চানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কাউটের ৩০ জন ছাত্র অংশ নেয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিন, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক অমল কর, সাংগঠনিক সম্পাদক মুদাচ্ছির আলম সুবল, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম, ট্যাকেরঘাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ অধ্যক্ষ খায়রুল ইসলাম, বাগলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক প্রদীপ রায়, চানপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান প্রমুখ।
টাঙ্গুয়ার হাওরপাড় ও শহীদ সিরাজ লেক এলাকাতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক বিভিন্ন বিলবোর্ড টানানো ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। পরে শহীদ সিরাজ লেক থেকে নেট জাল দিয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য তুলে স্তুপাকৃত করে আগুনে পুড়ানো হয়।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, আমরা এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। বিশেষ করে টাঙ্গুয়ার হাওরের ভিতরে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল বন্ধ রাখতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে আগত পর্যটকরা ভ্রমণের সময় অপচনশীল দ্রব্য যেমন কোকের বোতল, পানির বোতল, খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিক এগুলো ফেলে হাওরের পরিবেশ নষ্ট করছে। এ বিষয়গুলো সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসায় ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে উৎসাহী করার জন্য আমরা নিজেরাই পরিচ্ছন্নতা কাজের সূচনা করেছি। এ কাজে গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, স্কাউট, প্রশাসন সবাইকে সহযোগিতা চাই।
তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে ৫ শতাধিক পর্যটকবাহী নৌকা রয়েছে। প্রতিটি নৌকাতে ডাস্টবিন রাখতে হবে। টাঙ্গুয়ার হাওরের চলাচলকারী প্রতিটি নৌকাকেই রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য হাওরে ফেলা হলে মাঝি ও নৌকার মালিককে আইনের আওতায় আনা হবে। অতীতে টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রচুর পরিমাণে মিটা পানির মাছ ও পরিযায়ী পাখি ছিল। সম্প্রতি টাঙ্গুয়া হাওরের ভিতরে পর্যটকবাহী ইঞ্জিন চালিত নৌকা অবাদে চলাচলের কারণে হাওরের মিটা পানির মাছ হাওর থেকে বেরিয়ে অনেকটাই কমে গেছে।