পাউবোর বাঁধের ওপর এলজিইডির সড়ক

এনামুল হক, ধর্মপাশা
ধর্মপাশায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন ও অনুমোদিত কাইল্যানি ফসলরক্ষা বাঁধের ওপর আরসিসি সড়ক নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একটি বিভাগের প্রকল্পের ওপর অন্য আরেকটি বিভাগের প্রকল্পের কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনাপত্তিপত্র নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অনাপত্তিপত্র না নিয়ে পাউবোর নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়ন রেখা (এলাইনমেন্ট) বরাবর প্রায় ১০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে সড়ক নির্মাণ করছে এলজিইডি। পাউবোর ফসলরক্ষা বাঁধের নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে সড়কটি নিচু করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে এবার হাওরে ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ওই সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার জন্য সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলেছেন। কিন্তু সড়ক নির্মাণের কাজ এখনও চলমান রয়েছে।
জানা যায়, পাউবোর অধীনে কাইল্যানী হাওর ফসলরক্ষা বাঁধটি প্রতি বছর উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটি পিআইসির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে। এছাড়াও ধর্মপাশা রুই বিল ডুবন্ত বাঁধের আরও একটি প্রকল্পের কাজ গত অর্থ বছর থেকে চলমান রয়েছে। এ বাঁধের মাধ্যমে উপজেলার চামরদানী, সেলবরষ, মধ্যনগর ও পাইকুরাটি ইউনিয়নের অধিকাংশ হাওরের ফসল রক্ষা পায়। ওই প্রকল্প দুটির কিছু অংশ চামরদানী ইউনিয়নের সুলেমানপুর থেকে সম্পদপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কি.মি. ও রামদীঘা থেকে টেপিরকোনা পর্যন্ত প্রায় ৭ কি.মি. জায়গা জুড়ে অবস্থিত। হাওর অঞ্চলে বন্যা
ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের (ঐঋগখওচ) অধীনে এলজিইডি ২০ কোটি ৪৮ লাখ ৯১ হাজার ১৩৮ টাকা ব্যয়ে পাউবোর ওই ১০ কি.মি. প্রকল্প বাস্তবায়ন রেখা ও বাঁধের ওপর দিয়ে প্রায় ১৭ কি.মি ডুবন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যা পাউবোর বাঁধের নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে অনেক নিচু। ফলে ওই স্থান দুটিতে হাওর এলাকায় আগাম বন্যার কারণে হাওরের অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করে কৃষকের ফসলহানি ঘটতে পারে।
উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘বিনানুমতিতে ও অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ কেটে মাটি পাশে রেখে পাউবোর অনুমোদিত ডিজাইন সমতলের ০.৭০ মিটার থেকে ২.১ মিটার নিচু করে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে হাওরে অকাল বন্যায় ফসলহানি ঘটতে পারে। সড়ক নির্মাণ হয়ে গেলে সেখানে বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হবে না।’
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, ‘গত সোমবার জায়গা দুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি এবং তাঁকে চিঠিও দিয়েছি। কিন্তু তিনি এখন (মঙ্গলবার দুপুর) পর্যন্ত কোনো কিছু আমাকে জানাননি। অনুমতি না নিয়ে কোনোভাবেই বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ করতে পারেনা। সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে বাঁধটি নিচু করা হচ্ছে। এর কারণে যদি হাওরে ফসলহানি ঘটে তাহলে এর দায় কে নেবে?’
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আহমদ বলেন, ‘পাউবোর এলাইনমেন্ট আমাদের এলাইনমেন্টের বাইরে। তাদের এলাইনমেন্ট আমাদের এলাইমেন্ট থেকে প্রায় ২৫ ফুট ভিতরে রয়েছে। তারা তাদের মতো করে কাজ করবে। এতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’