পাগনার হাওরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে দ্রুত উদ্যোগ নিন

একটি তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেছেন পাগনার হাওর পাড়ের অধিবাসীরা। এক মানববন্ধনে তারা বলেছেন, ‘নির্বাচন আসলে তৃণমূল থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত যারা প্রার্থী হন তারা জনগণকে আশ্বাস দেন নির্বাচিত হলে খননের মাধ্যমে পাগনার হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করা হবে। কিন্তু নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হওয়ার পর কেউ কোনো উদ্যোগ নেন না’। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে স্থানীয় জনসাধারণের এমন ক্ষুব্ধ মনোভাবের পরিচয় পাওয়া গেল। সোমবার সকালে পাগনার হাওর এলাকার গ্রাম মল্লিকপুরের পশ্চিমের কান্দায় স্থানীয় ১০ গ্রামের বাসিন্দারা মানববন্ধন করেন। তাদের দাবি ছিলো পাগনাও হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনের। বক্তারা বলেছেন জলাবদ্ধতার কারণে ওই ১০ গ্রামের অন্তত ১৫০০ একর জমি আবাদ করা যায় না। তারা জলাবদ্ধতা নিরসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য দাবি জানান। সংবাদভাষ্য অনুসারে তারা দাবিটি জানিয়েছেন এলাকার সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য যিনি জামালগঞ্জের মানুষ; এই দুইজনের কাছে। যথার্থভাবেই তারা যথোপযুক্ত ব্যক্তির কাছে নিজেদের আকুতি জানিয়েছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এলাকাবাসীর কথা অনুসারে এই নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ গত কয়েক বছরে এই দাবির প্রতি ভ্রƒক্ষেপ করেননি। যদিও প্রতিটি নির্বাচনের সময় তারা এলাকার লোকজনকে সমস্যা সমাধানের জোর প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিলেন। সামনে নির্বাচন। তাই মানুষ আরেকটি নির্বাচনের আগে বিষয়টি তাদের নজরে আনলেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণেচ্ছুরা হয়তো আবারও প্রতিশ্রুতি প্রদান করবেন। এবং পরে বেমালুম ভুলেও যেতে পারেন। ভুলে যাতে না যান সেজন্য এলাকার লোকজন মানববন্ধনে প্রতিশ্রুতি পূরণে পুরানো ব্যর্থতার বিষয়টি সখেদে উল্লেখ করে আগাম বার্তা দিয়ে রাখলেন যাতে আর ভুল না হয়।
বিষয়টি নিতান্তই দুঃখজনক যে, বিশাল পরিমাণ জমি এই বাংলাদেশে এখনও কেবল উদ্যোগহীনতার কারণে অনাবাদী থেকে যাচ্ছে। পাগনার হাওরের জলাবদ্ধতার দুঃখ নতুন নয়। গত কয়েক দশকের সমস্যা এটি। এ নিয়ে কথা কম হয়নি। কিছু ব্যবস্থা হয়তো গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু পরিপূর্ণভাবে যে হাওরটিকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা যায়নি আলোচ্য মানববন্ধন আবারও সে কথা সকলকে মনে করিয়ে দিল। কৃষি ও কৃষকের সমস্যা বাংলাদেশে প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ মনোযোগ আকর্ষণের দাবি রাখে। কিন্তু কখনও কৃষি এই মনোযোগ পায়নি। এর পিছনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগহীনতা একটি বড় কারণ। তারা সরব থাকলে কোনো না কোনো ভাবে সমাধানের পথ বের হয়ই। এই জনপ্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য নন। বরং ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের সকল স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতা এটি। আমরা প্রতি ইঞ্চি জমিকে আবাদের আওতায় আনার সংকল্প যখন ব্যক্ত করি তখন একটি হাওরের দেড় হাজার একর জমির অনাবাদী থেকে যাওয়ার ঘটনা ওই সংকল্পের প্রতি চরম পরিহাস বটে। ভোট আসলে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ফুটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মুখে। জনগণ অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে শিখেছে, এসব প্রতিশ্রুতির সবগুলো আদৌ পূরণ করা হয় না। এই অভিজ্ঞতার ফলাফল কখনও কখনও প্রতিশ্রুতি প্রদানকারীদের বিপক্ষে চলে যেতে পারে। নির্বাচিতদের মানুষের এই মনোস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। তাদের বোকা ঠাওরানোর কোনো অর্থ হয় না। সুতরাং পাগনার হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে যারা যারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাদের এখন গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে হবে। নিতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা। তাদের শুভ উদ্যোগ যদি পাগনার হাওরের এই দেড় হাজার একর জমির জলাবদ্ধতা দূর করতে পারে তাহলে অবশ্যই উনারা জনগণের ভালোবাসার দাবি নিয়ে এলাকায় এসে পুনরায় দাঁড়াতে পারবেন।
পাগনার হাওরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ কামনা করি আমরা।