পাগলা-বীরগাঁও সড়কে ভাঙন, দুর্ভোগে মানুষ

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ.সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার থেকে বীরগাঁও রোডে বীরগাঁও সংযোগ ভায়া করেরগাঁও পর্যন্ত প্রায় পনেরো কিলোমিটার রাস্তা। খাতা-কলমে পনেরো কিলোমিটার হলেও দৃশ্যমান সড়ক সর্বোচ্চ সাত কিলোমিটার হবে। পাগলা বাজার থেকে বীরগাঁও-এর খালপাড় পর্যন্ত সড়কে চলাচল করে যানবাহন। আগে খালপাড় ব্রিজ পর্যন্ত যানবাহন চললেও এখন আর ব্রিজের ধারে কাছেও যায় না যাত্রীবাহী গাড়ি। থামতে হয় খালপাড় জামে মসজিদের উত্তরে ওয়াসিম রায়মনের চায়ের দোকানের সামনে। বাকী পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয় পূর্ব বীরগাঁওয়ের সবক’টি ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের বিশ হাজারেরও বেশি মানুষকে। যদি কোনো চালক বীরগাঁও বাজার, পশ্চিমপাড়া পয়েন্ট কিংবা ইউনিয়নের ভিতরে কোনো গ্রামে গাড়ি দিয়ে যেতে চান তাহলে চরম বেগ পোহাতে হবে তাদের। পাড়ি দিতে হবে ধুলার সাগর। গ্রামের ভিতরের রাস্তার দুঃখের চেয়ে এখন বীরগাঁওবাসীর বড় দুঃখ দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাগলা-বীরগাঁও খালপাড় পর্যন্ত মূল সড়ক। এই সড়কের ন্যূনতম ১৫টি স্থানে ১ কিলোমিটারেরও বেশি জায়গায় রাস্তা ভাঙ্গার দৃশ্য চোখে পড়ে। এলাকাবাসী চাচ্ছেন পাগলা-বীরগাঁও সড়কটির এই ভাঙ্গা অংশ যেনো দ্রুত সংস্কার হয়ে চলাচল উপযোগী হয়। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারে সুনামগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সর্বাত্মক সহযোগিতাও কামনা করেছেন ইউনিয়নবাসী ও এই রাস্তায় চলাচলকারী যান চালকেরা।
গত রবিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খালপাড়ের ব্রিজের গোড়ার অংশের মাটি একেবারেই নেই। একটি সিএনজি ফোরস্ট্রোক ভালোভাবে চলাচল করা তো দূরে থাক, রাস্তার এই অংশে একটি মোটরসাইকেলও চলতে হয় অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে। বর্ষায় পাখি মারা হাওরের ঢেউয়ের কারণে রাস্তা ভেঙ্গে এমন বেহাল দশা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুধু খালপাড় অংশই নয়, খালপাড় জামে মসজিদের উত্তরের বেশ কিছু অংশও ভাঙনের কবলে পড়েছে। বর্তমানে স্থানীয় চালকেরা যে অস্থায়ী স্ট্যান্ড করেছেন তার কাছে ওয়াসিম রায়মনের দোকানের সামনেও রাস্তা ভাঙ্গা আছে। এরকম পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের হোসেনপুর পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১৫টি অংশে এক কিলোমিটারেরও বেশি স্থানে এমন ভাঙ্গা অংশ দেখা যায়। রাস্তার এমন দশায় চরম কষ্ট করতে হচ্ছে পূর্ব বীরগাঁও ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও, হাঁসকুড়ি, উমেদনগর (লাউগাঙ), ধরমপুর, সলফ, নয়াগাঁও, বাবনগাঁও, বসিয়া খাউড়িড়র কিছু অংশসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় বিশ হাজারের মতো মানুষের।
স্থানীয় ও চালকরা জানান, পাগলা-বীরগাঁও সড়কে ১৩০টি তালিকাবদ্ধ সিএনজি চালিত ফোরস্ট্রোক যাত্রী বহন করে। এসব সিএনজি ছাড়াও অন্যান্য অসংখ্য যানবাহনও এ রাস্তায় চালকরা করে। এমন বেহাল রাস্তায় বাধ্য হয়েই গাড়ি চালাতে হয়। এসব ভাঙগা রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিনই ছোটবড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তারা। নষ্ট হচ্ছে গাড়ি।
যাত্রীরা জানান, এমন রাস্তায় চলাচলে খুবই কষ্ট করতে হয় তাদের। বীরগাঁও আসতে হলে অনেক ক্ষেত্রে ভাঙার কারণে গাড়ি থেকে যাত্রী নেমে তারপর গাড়ি তুলে আবার উঠে আসতে হয়।
চালকরা জানান, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের হোসেনপুরে পয়েন্টের মোড় পেরিয়েই শুরু হয় রাস্তার ভাঙা অংশ। বাহাদুরের বাড়ির সামনের অংশ, দিপুলের বাড়ি, গুচ্ছগ্রামের পশ্চিম দিকের অংশ, বাবুর ভাঙা, ফিসারির সামনে, শাহিনুরের বাড়ির সামনের অংশ, মন্নান মিয়ার বাড়ির সামনের অংশ, রব্বুলের বাড়ির সামনের অংশ, বড় ভাঙা, টুক্কু মিয়ার বাড়ির সামনে, হোসেন মিয়ার বাড়ির সামনেসহ প্রায় ১৫টি অংশে ছোটবড় ভাঙ্গা আছে। ফলে এ রাস্তায় চলাচলে রীতিমত অতিষ্ট বীরগাঁও-করেরগাঁওসহ কয়েক হাজার মানুষ।
বীরগাঁও গ্রামের ওয়াসিম রায়মন, ঝুনু মিয়া, শিপাউর রহমান ও ওলিউর রহমান বলেন, এই রাস্তায় চলাচল করতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গ্রামের সকলের দাবি যত দ্রুত সম্ভব এই রাস্তা সংস্কার করে দেওয়া হোক। না হলে যে কোনো সময় একটি বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহাণি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আকুল আবেদন যেনো রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হয়।
গ্রামের প্রবীব মুরব্বি, শালিস ব্যক্তিত্ব জসিম উদ্দিন ও আহমেদুল কবির স্যামুয়েল বলেন, রাস্তাটি দেখলে মনে হবে আমরা কতটা পিছিয়ে আছি। আমরা আমাদের অভিভাবক মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী¡ এম এ মান্নানের সহযোগিতা কামনা করছি। বর্ষাকালে আমাদের চলার আর কোনো উপায় থাকবে না। যত দ্রুত সম্ভব আমাদের এই রাস্তাটি চলাচল উপযোগি করে দেওয়ার দাবি করছি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আল-নূর তারেক দৈনিক সুনামগঞ্জে খবরকে বলেন, পাগলা-বীরগাঁও সড়ক আমরা দেখেছি। এ সড়ক নিয়ে একটা চাহিদা আমরা ইতোমধ্যে পাঠিয়েছি আমাদের ঢাকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। আশা করছি খুব দ্রুত এ কাজের অনুমোদন আমরা পেয়ে যাবো।
সুনামগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম দৈনিক সুনামগঞ্জে খবরকে বলেন, পাগলা-বীরগাঁও রাস্তার কথা আমাদের জানা আছে। ইতোমধ্যে এ রাস্তা নিয়ে একটা প্রজেক্ট রেডি করে অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি। ঢাকার লোকজন এসে দেখেও গেছেন। আশা করছি আগামী দু’এক সপ্তাহের মধ্যে অনুমোদনও পেয়ে যাবো। অনুমোদন পেয়ে গেলে দরপত্র আহ্বানসহ অন্যান্য কাজে যে সময় লাগে এর বেশি সময় লাগবে না। আশা করছি আগামী জুন মান মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে।