পাগলা বড় জামে মসজিদে ছিলো দর্শনার্থীদের বাড়তি ভিড়

ইয়াকুব শাহরিয়ার, পাগলাবাজার
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। আর এ আনন্দে আরেকটু রাড়তি মাত্রা যোগ করতে প্রতি বছরের মতো এবারো ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও উৎসুক হিন্দুদেরও বাড়তি ভিড় ছিলো দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা বড় জামে মসজিদে। মঙ্গলবার ঈদের দিনের বিকাল থেকেই স্থানীয় ও বহিরাগত বিভিন্ন বয়সের লোকজন আসতে শুরু করে পশ্চিম পাগলা ঐতিহ্যবাহী এই মোঘল প্রাসাদাকৃতির তিন গুম্বুজ বিশিষ্ট্য মসজিদটিকে দেখতে, নামাজ আদায় করতে।
বছরের অন্যান্য সময় স্বল্প সংখ্যক দর্শনার্থী থাকলেও ঈদ, শবে বরাত, শবে কদর প্রভৃতি ধর্মীয় উৎসবের সময় দূর-দূরান্ত থেকে আসা বাড়তি লোকের আনাগোনা লক্ষ করা যায়। এসব দর্শনার্থীদের মাঝে বেশি থাকেন মধ্য ও যুবক বয়সের পুরুষ ও মহিলা। কেউ কেউ এখানে এসে নামাজ আদায় করেন, কেউ কেউ ১৯৩০ সালে ইয়াছিন মির্জার ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি এ মসজিদটিকে দেখে চোখের তৃপ্তি মেটান।
বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা দর্শনার্থীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা এ মসজিদটিকে ইয়াছিন মির্জার মসজিদ নামে চিনেন। অনেক ঐতিহ্যগাঁথা ও নানান লোককথাও শুনা যায় এই মসজিদটিকে ঘিরে।
 হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে আসা অপু দাশ জানান, ‘তারা এই মসজিদের অনেক সুনাম শুনেছেন, তাই হবিগঞ্জ থেকে এখানে এসেছেন। সত্যি মসজিদটি খুব সুন্দর।’
বীরগাঁওয়ের এনজিও কর্মকর্তা মো: রুহুল আমীনও এসেছিলেন তার পরিবার নিয়ে   মসজিদটিকে দেখতে। তিনি জানান, সব সময় মসজিদটি দেখতে আসা হয় না, ঈদ কিংবা অন্য কোনা ধর্মীয় অকেশন এলে মাঝে মাঝে আসি। নদীর তীরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশে এই আদি মসজিদটি সত্যি খুব সুন্দর। প্রত্যেকের উচিৎ আমাদের এই প্রাচীন স্থাপনাটির যথাযথ মূল্যায়ন করা।’
মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোষাধক্ষ ইয়াসিন মির্জার প্রপৌত্র মঞ্জুরুল হায়দার বলেন, ‘দর্শনার্থীরা সব সময়ই আসেন, তবে ঈদ এলে ভিড় একটু তুলনামূলক বেশি থাকে। আমরা তাদের জন্য সুন্দর পরিবেশের ব্যবস্থা করেছি। তাদের যেনো কোনো সমস্যা না হয় আমরা সব সময় সে দিকে নজর রাখি।’