পাশ্চাত্যে ভ্রমণ ও ভাবনা

স্বপন কুমার দেব
দেশে বিদেশে ভ্রমণের নানা অনুভূতি আছে। বিশেষত প্রাচ্য-পাশ্চাত্য। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা হলে তো কথাই নেই। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমিরাত এয়ারলাইন্সের দুই প্রস্ত বোর্ডিং কার্ড হাতে পেলাম। একটি দুবাই পর্যন্ত। আরেকটি দুবাই থেকে টরন্টো। টরন্টোর নাম দেখে শরীরে এক ধরনের রিমঝিম অনুভূতি। আধো ঘুম, আধো জাগরণ। টরন্টো। এ যেন বিশ্বাস হয় না। মাঝে মাঝে স্বপ্ন বুঝি ফলে যায়। দুবাই থেকে কানাডা যাত্রা শুরু হলো। আমি নির্ঘুম। পর্দায় আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ পার হচ্ছি। কানাডা বুঝি আসে না। কানাডা বুঝি আসে না। অবশেষে স্বপ্ন সফল। টরন্টোর ঝকঝকে নীল আকাশে আমাদের হাওয়াই জাহাজ উড়ছে। অক্টোবরের সকাল পৃথিবীর আরেক প্রান্তে তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত ঢুকছে। এসব যেন ভাবা যায় না। কানাডার মাটি ছুঁতেও জাহাজের অনেক কেরামতি। যারা বারবার যাওয়া আসা করেন সম্ভবত: তাদের এসব অনুভূতি হয় না। অত:পর টরন্টোর ৪০১ নম্বর হাইওয়ে দিয়ে গাড়িতে বাসায় যাচ্ছি। সম্ভবত: ১২ লেনের মহাসড়ক। বাড়ি-ঘর সাজানো গোছানো ঝকঝকে। তবে বহুতল দালান কোঠা চোখে পড়ে না। প্রথম দর্শনে সাদামাটা ভাব। তবে এর ভেতরে লুকিয়ে আছে জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি পরিকল্পনা আর গবেষণা। শহর অনেক বড়। তুলনায় লোকজন কম। ফলে আকাশচুম্বী দালানকোঠাও কম। একতলা কমপ্লেক্সের প্রাচুর্য্য। বেশি আশা করে আসলে তুলনা করার ইচ্ছা বেশি থাকে। টরন্টো আরও বড় হচ্ছে। এক শহরের ভেতরে একাধিক জেলা শহর। সব মিলিয়ে গ্রেটার টরন্টো। মেট্রো বা পাতাল রেলকে এখানে সাবওয়ে বলে। একটি চমৎকার পরিবহন ব্যবস্থা। বসার
জায়গা পাওয়া যায়। বাসও তদ্রুপ, নির্দিষ্ট জায়গায় ট্রাম বা স্ট্রিট ধরে চলাচল করে। সাবওয়ের চলার গতি মসৃন ও দ্রুত। সাবওয়ের পাড়ে পাড়ে বসবাস, কর্মস্থল। তাদের নিজস্ব গাড়ি না হলেও চলবে। পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণে এই সাবওয়ে লাইন আছে। তবে পরিধি অপ্রতুল বিধায় নতুন লাইন বসানোর কাজ চলছে। এখানে জীবন যাত্রা ব্যয়বহুল। লোকজন কর্মব্যস্ত। সময় দেবার মতো সময় কারো হাতে নেই। উইক এন্ড ডে বা শনি রবিবারে থাকে পূর্ব নির্ধারিত টাইট প্রোগ্রাম। এখানে কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্য সময় অতীব মূল্যবান।
লেখক : সিনিয়র আইনজীবী ও উপদেষ্টা, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর ২৯/১১/২০১৯