পাহাড়ে সিলেটের যুবকসহ জঙ্গি সংগঠনের ৫ সদস্য গ্রেফতার

সু.খবর ডেস্ক
দুর্গম পাহাড়ে জঙ্গি বিরোধী চলমান অভিযানে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।
র‌্যাব বলছে, গত বুধবার রাতে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি ও রোয়াংছড়ির দুর্গম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানের অগ্রগতি জানাতে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পরিষদ মিলানায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র‌্যাব।
সেখানে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, অভিযানে ৫ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্ত করে র‌্যাব গতরাতে থানচি ও রোয়াংছড়িতে অভিযান পরিচালনা করে এই ৫ জন জঙ্গিকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিরা হলেন— নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ির মুকিল্লা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে নিজামুদ্দিন হিরন ওরফে ইউসুফ (৩০), কুমিল্লা জেলার আ. রাজ্জাকের ছেলে সালেহ আহমেদ ওরফে সাইহা (২৭), সিলেট জেলার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাদিকুর রহমান সুমন ওরফে ফারকুন (৩০), কুমিল্লা জেলার মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে মো.বাইজিদ ইসলাম ওরফে মুয়াজ ওরফে বাইরু (২১), কুমিল্লা জেলার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে ইমরান বিন রহমান শিথিল ওরফে বিল্লাল (১৭) ।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত ইমরান বিন রহমান শিথিল কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া ৮ জন তরুণের মধ্যে একজন এবং সাদিকুর রহমান সিলেট হতে নিখোঁজ হওয়া ৪ জন তরুণের মধ্যে একজন।
র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেন, তালিকার ৫৫ জনের মধ্যে এরা সবাই সামরিক শাখার সদস্য হিসেবে পার্বত্য এলাকায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, গহীন দুর্গম এলাকা। তবে তাদের সাথে আরো কয়েকজন ছিলেন। তারা অভিযানের সময় পালিয়ে যায়। তবে এবারের অভিযানে কোন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি।
আল মঈন বলেন, আমাদের অভিযান জঙ্গিবিরোধী অভিযান। পার্বত্য এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষের নূন্যতম যাতে কোন ধরনের ক্ষতি না হয়, সে দিকটি লক্ষ্য রেখে অভিযান পরিচালনা করছি। কত দিনে এ অভিযান শেষ হবে সেটা এখন বলা কঠিন। তবে যাদের গ্রেফতার করেছি তাদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পেয়েছি।
র‌্যাব জানায়, এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মত কেএনএফের সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ি প্রায় ২০০ জনের মত কেএনএফের সশস্ত্র সদস্য প্রশিক্ষণ করাচ্ছে এরকম তথ্য আমরা পেয়েছি।
র‌্যাব আরো জানায়, কেএনএফ এর প্রধান নাথান বম, সামরিক কমান্ডার কথিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ভাংচুং লিয়ান বম, কথিত লে. কর্নেল সলোমন, কথিত লে. কর্নেল লালজং মুই ওরফে মাওয়াইয়া এবং কথিত লে. কর্নেল লাল মুন ঠিয়াল ওরফে চির চির ময়’সহ অন্যান্য নেতৃস্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের নির্দেশনায় কেএনএফ সদস্যরা জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ, খাবারসহ বিভিন্ন রশদ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।
গত ৮ জানুয়ারি রাতে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও রাজধানীর কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই সময় বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ২১ অক্টোবর দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ৭ জঙ্গিসহ তিনজন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সামরিক শাখা কুকি ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) সদস্যদের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করা হয়। পাহাড়ের কেএনএফ গোপন আস্তানায় টাকার বিনিময়ে এই প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপন করেছিল।
সূত্র : বাসস