পাহাড়ী ঢলে ডুবেছে সড়ক, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তাহিরপুর

বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর প্রতিনিধি
উজানে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় এবং এপারে সুনামগঞ্জেও গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ী নদীতে পানি বেড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশের তাহিরপুর ও বিশ^ম্ভরপুরের বিভিন্ন সড়কে ওঠেছে পানি। এ কারণে তাহিরপুরের সঙ্গে জেলা সদরসহ সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের বিশ্বম্ভরপুরের শক্তিয়ারখলা পার্শ্ববর্তী ১০০ মিটার সড়কের অ্যাপ্রোচের অংশ মঙ্গলবার সকাল থেকেই কোমর সমান পানিতে ডুবেছে। তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়কেও কোমর সমান পানি। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের দুর্গাপুর মাজারের সামনের অংশেও হাটু সমান পানি। এ কারণে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তাহিরপুরের।
তাহিরপুরের বালিজুরির বাসিন্দা ফেরদৌস আহমদ জানান, নৌকা দিয়ে বালিজুরি থেকে শক্তিয়ারখলা আসতে হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভপুরের দক্ষিণ বাদাঘাটের দুই লাখেরও বেশি মানুষ। কিছু অংশ নৌকা কিছু অংশ পায়ে হেটে এবং পরে আসতে হচ্ছে সড়ক পরিবহনে।
বিশ্বম্ভরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ জানালেন, বৃষ্টি সীমান্তের এপারের চেয়ে পাহাড়ে বেশি হয়েছে। এ কারণে ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশের বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর অংশে পাহাড়ী ঢল বেশি নেমেছে। মঙ্গলবার বিকালে বৃষ্টি থামলেও পাহাড়ী ঢলের আশংকা কমে নি। তিনি জানান, সড়কের তিনটি অংশে পানি ওঠায় পথচারীরা কষ্টে পড়েছেন। মানুষের বিপদের সময় একশ্রেণির মানুষ অতিরিক্ত টাকা রোজগারের ধান্দায় লেগেছে। শক্তিয়ারখলা ১০০ মিটার সেতুর পূর্ব পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক থেকে ভাটিপাড়া স্কুলের সামনে নামিয়ে দিয়ে মঙ্গলবার বিকালে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়া গুনেছে কিছু নৌকা ওয়ালা, আবার মোটর সাইকেল পাড়া-পাড় করে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দাবি করেছে। এসব তদারকিও কেউ করছে না।
তিনি বললেন, ‘গত দুই দিন দক্ষিণের বাতাসে বৃষ্টি পাহাড়ের দিকে ঠেলেছে এবং ওখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির পানি নিচের দিকে নামলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। মঙ্গলবার বিকালেও দক্ষিণের বাতাস বেশি ছিল জানিয়ে বললেন, পাহাড়ী ঢল রাতেও নামতে পারে এবং সুনামগঞ্জের নদী নদীতে পানি বেড়ে নিম্মাঞ্চলে পানি ঢুকতে পারে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানালেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তের ওপারের ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৫৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। একারণে পাহাড়ী নদীগুলো দিয়ে ঢল নামছে। তাহিরপুরে যাদুকাটার পানি বিপদ সীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বললেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে যাদুকাটা ও রক্তি নদীর পানি বেড়েছে। এই দুই নদীর পানি কূল উপচে আশপাশের এলাকা প্লাবিত করেছে। তাহিরপুরের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।