পূজার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

স্টাফ রিপোর্টার
দেবী দুর্গার আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে ১১ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ১৫ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা। এই বছর দেবীর আগমন ঘটবে ঘোটকে আর্থাৎ ঘোড়ায়, যাবেন দোলায় চড়ে।
পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৬৩ টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ৫৬ টি পৌরসভায় এবং ৭ টি ইউনিয়নে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সুনামগঞ্জ পৌর শহরে ২৪ এবং ইউনিয়নে হবে ২৪টি। ছাতক উপজেলায় ৩৭টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে পৌরসভায় ২৫টি এবং ইউনিয়নে ১২টি। জগন্নাথপুর উপজেলায় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে ৪০টি মণ্ডপে । এরমধ্যে ৩৪টি পৌরসভায় এবং ৬টি ইউনিয়নে।
এছাড়াও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২৯টি, তাহিরপুর উপজেলায় ২৯টি, ধর্মপাশা উপজেলায় ১৯টি, মধ্যনগর উপজেলায় ৩২টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১৮টি, শাল্লা উপজেলায় ৩০টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৫২টি এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
জেলায় মোট ৪১৯টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গা পূজা। এরমধ্যে ৪০৪ টি সার্বজনীন এবং ১৫টি পারিবারিক পূজা। গত বছরের চেয়ে এবার পূজা মণ্ডপে সংখ্যা বেড়েছে ৭ টি। গত বছর জেলায় পূজা মণ্ডপে সংখ্যা ছিল ৪১২টি।
সব মন্দির ও মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতিও শেষ করে এনেছেন আয়োজকরা। বাকী কাজ শেষ করতে দিন রাত কাজ চলছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মূহুর্তের সাজসজ্জা। প্রতিমাশিল্পীরা রাতদিন পরিশ্রম করে রং-তুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গাকে। চলছে আলোকসজ্জার কাজ। পূজা মণ্ডপ ছাড়াও মণ্ডপ সংলগ্ন সড়কেও আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন গেট তৈরি করা হচ্ছে।
শহরের মধ্যবাজারের জয়দুর্গা পূজা কমিটির সভাপতি মতিল্লাল চন্দ বলেন, আমাদের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। এখন চলছে সাজসজ্জার কাজ।
সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায় বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখতে ভক্তদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বললেন, মণ্ডপে আগত পূজারি, দর্শনার্থী ও ভক্তদের সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। নারী-পুরুষের জন্য পৃথক যাতায়াত ব্যবস্থা রাখতে হবে। পূজা মণ্ডপে জনসমাগম পরিহার করতে মেলা, আলোকসজ্জা,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতি প্রতিযোগিতা করা যাবে না। প্রতিমা বিসর্জনের সময় শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে। তিনি বলেন, পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রতিটি মণ্ডপে পূজা কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে। এছাড়া দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা মন্দিরে বা মণ্ডপে এলে সংশ্লিষ্ট থানাকে আগেই অবহিত করতে হবে।