পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের সড়ক নদীতে বিলীন

আকরাম উদ্দিন
একই স্থানে নদী ভাঙন প্রতিরোধে বার বার আসছে সরকারি বরাদ্দ। সংস্কার কাজও হচ্ছে একাধিক বার। কিন্তু নদী ভাঙন থামানো যাচ্ছে না। ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই কাজ না হওয়ার অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। রবিবার রাতে এবং সোমবার দিনের ভারী বর্ষণে শহরতলীর পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের যাতায়াত সড়কও নদীতে বিলীন হয়েছে। তাই একাধিক গ্রামের মানুষের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শহরতলীর পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের নদী ভাঙনে অসংখ্য ঘর-বাড়ি, গাছপালা ও চলাচল সড়ক বিলীন হয়ে আসছে। এই ভাঙন প্রতিরোধে বিগত সময়ে পর পর তিন বারে প্রায় ৬ কোটি টাকা সরকারী বরাদ্দ হয়েছে। প্রথমবার বরাদ্দের টাকায় ভাঙন প্রতিরোধে ব্লক স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধ হয়নি। দ্বিতীয় বার আবারও বরাদ্দ আসে বালুর বস্তা ফেলার জন্য। ছয় নয় হিসাবে বালুর বস্তা ফেলা হয়। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধ হয়নি। একইভাবে ৩য় বারও বালুর বস্তা ফেলার জন্য বরাদ্দ আসে। কিন্তু বালুর বস্তা পর্যাপ্ত পরিমাণে না ফেলায় কোনো কাজেই আসেনি।
স্থানীয়রা আরও জানান, সরকারি এই বরাদ্দের টাকা পানিতে ঢেলে দেয়ার মতো লুটেপুটে খাওয়া হচ্ছে। সঠিকভাবে ব্লক স্থাপন হয়নি। বার বার বরাদ্দে বালুর বস্তা ফেলা হয়নি পরিমাণ মতো। পূর্ব ইব্রাহীমপুরের নদী ভাঙন নিয়ে যেন চলছে লুটপাট বাণিজ্য।
নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি গাজীউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের ভাঙনে আমাদের বাড়ি-ঘর, গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে। বার বার বরাদ্দ আসে কিন্তু ভালমানের কোনো কাজ হয় না। ভাঙন সংস্কার কাজের টেকসই উন্নয়নের দাবি আমাদের।
আব্দুল হানিফ বলেন, নদী ভাঙনে সবই গেছে। এখন বরাদ্দ আসে, লুটেপুটে খান সবাই। ভাঙন প্রতিরোধে সঠিকভাবে কাজ হয় না। আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অবশিষ্ট ঘর-বাড়ি বাঁচাতে এবং জানমাল রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমাদের।
পথচারী শরীফ উদ্দিন বলেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ যথাযথ না হওয়ায় যাতায়াত সড়কও ধসে পড়েছে। সড়ক ধসে পড়ায় সাঁকো দেওয়া হয়েছে। এই সাঁকোও ধসে পড়েছে। মানুষজনের যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, শহরতলীর ইব্রাহীমপুর গ্রামে নদী ভাঙনের সংস্কার কাজ চলাকালীন সময়ে ধস নামার ঘটনায় একটি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। তা অনুমোদন হয়ে আসলে ওই প্রকল্পের আওতায় নদী ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা হবে।