পেঁয়াজ শূন্য বাজার, আমদানী করছেন না ব্যবসায়ীরা

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাজারে পাইকারী ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানী না করায় ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে ক্রেতাদের ক্ষোভ প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে এবং জরিমানার ভয়ে পেঁয়াজ আমদানী করছেন না তারা, এমন মন্তব্য ব্যবসায়ীদের।
শহরের মিউনিসিপ্যাল মার্কেট, জগন্নাথবাড়ি ও সবজিবাজার এলাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে প্রায় দুইশত দোকান রয়েছে। তন্মধ্যে অন্তত ১৩টি দোকানে সামান্য পরিমাণে পেঁয়াজ রয়েছে। এছাড়া ওয়েজখালী, ষোলঘর, মুহাম্মদপুর, নবীনগর, ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকার বেশির ভাগ দোকানে পেঁয়াজ দেখা যায়নি। বাজারের একাধিক পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী জানান, গত সপ্তাহে পেঁয়াজের মূল্য থেকে কিছুটা কমেছিল। কিন্তু একদিন পর হঠাৎ করে আবারও বেড়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। ক্রেতারা দোকানে এসে পেঁয়াজ না কিনলেও দাম জিজ্ঞেস করা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ১ মন পেঁয়াজ কিনলে পঁচা বের হয় অন্তত: ৫ কেজি। এই পঁচা পেয়াজের মূল্য যুক্ত হয় ভাল পেঁয়াজে। পেঁয়াজ বেশি দামে আমদানী করে বেশি দামে বিক্রি করেও তেমন লাভ হয় না। ঝুঁকি নিয়ে বেচাকেনা করতে হয়। পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি করায় আবার জেল জরিমানার দুশ্চিন্তা মাথা থেকে সরানো যায় না। পেঁয়াজ বিক্রি করে অযথা হয়রানি হওয়ার চেয়ে আপাতত: আমদানী বা বিক্রি না করাই ভাল মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
পেঁয়াজের ক্রেতা জলিলপুর গ্রামে রইছ উদ্দিন বলেন,‘পেঁয়াজ গ্রামের দোকানে নেই। তাই বাজারে এসেছি। এখন বাজারেও পর্যাপ্ত পেঁয়াজ নেই। ২-১ দোকানের টুকরিতে পেঁয়াজ পেয়েছি, দামও বেশি। মানও ভাল না।’
পেঁয়াজের ক্রেতা ইব্রাহীমপুর গ্রামের সাজাউর রহমান বলেন,‘বাজারে পেঁয়াজ নাই কেন। একাধিক দোকানদারকে এমন প্রশ্ন করেও কোনো উত্তর মেলেনি।
সবজি বাজারের ব্যবসায়ী জহির আহমদ বলেন,‘আমার দোকানে খুব বড় আকারের মিশরীয় পেঁয়াজ আছে। দাম ১৫০ টাকা প্রতি কেজি। কিনেছি ১৩০ টাকা কেজি দরে। এই পেঁয়াজ মানে ভাল না। পঁচেও তাড়াতাড়ি। পেঁয়াজ কিনে সব লস।’
একই এলাকার ব্যবসায়ী মোহন মিয়াও বিক্রি করছেন ছোট আকারের পেঁয়াজ। তিনি বলেন,‘পেঁয়াজ ভাল। দাম ১৮০ টাকা প্রতি কেজি। তবে প্রতি মণে ৬ কেজি করে পঁচা পেঁয়াজ বের হয়। এতে আমার লাভ হয় না।’
মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ দাস বলেন,‘আমি ছোট আকারের পেঁয়াজ বিক্রি করি ১৬০ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজের মান তেমন ভাল না।’
মিউনিসিপ্যাল মার্কেটের প্রানেশ রায় বলেন,‘বেশি দামে কেনা পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি করছি। অন্যান্য মাল বিক্রি স্বাভাবিক রাখতেই কিছু পেঁয়াজ রেখেছি।’
পাইকারী ব্যবসায়ী অসীম রায় বলেন,‘গত বৃহস্পতিবারে পেঁয়াজ আমদানী করেছিলাম ৪০ মণ। সাথে সাথে শেষ। একদিনেই ক্রেতারা ২-৫ কেজি করে নিয়ে গেছেন ১৪০ টাকা কেজি মূল্যে। আমদানী করেছিলাম ১৩৫ টাকা কেজি দরে। ২-১দিন পর আবারও আমদানী করব পেঁয়াজ।’
জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. আব্দুল খালেক খান বলেন,‘ব্যবসায়ীরা বেশি দামে পেঁয়াজ আমদানী করছেন না। আমদানী করার পর দাম কমে গেলে লোকসানে পড়বেন তারা। ’