পৌরসভাকে ভারতের অ্যাম্বুলেন্স উপহার- এর উপযুক্ত কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুত উপহার ১০৯টি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সের একটি গতকাল সুনামগঞ্জ পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে জেলার ছাতক ও দিরাই পৌরসভাকে আরও দুইটি অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়। জেলায় এই তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদানের ফলে স্বাস্থ্যসেবায় কিছুটা উন্নয়ন ঘটবে। অ্যাম্বুলেন্সগুলো আইসিইউ সুবিধা সম্বলিত। সংকটাপন্ন রোগীকে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে দ্রুত নিরাপদভাবে নিয়ে যেতে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মূলত ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, ঐতিহ্যিক এবং হার্দিক। এই সম্পর্কের গভীরতা ও তাৎপর্য ব্যাপক ও নানা ব্যঞ্জনায় পরিপূর্ণ। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ভারতীয় সহায়তা এই সম্পর্ককে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। সম্পর্কের এই জায়গা থেকে ভারত ও বাংলাদেশ সবসময় পরস্পরের প্রতি নানাভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং বন্ধুতার নিদর্শন প্রকাশে আন্তরিক। বর্ণিত ১০৯ টি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়া এই সম্পর্কের মানবিক দিকটির পরিচয়বাহী। এমন মানবিক কাজের জন্য আমরা ভারত সরকারকে অভিনন্দন জানাই। একইসাথে ভারতীয় হাইকমিশন এবং সিলেটস্থ উপহাইকমিশনকে আমাদের অভিনন্দন জেলায় ৩টি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দে অনবদ্য ভূমিকা রাখার জন্য।
বাংলাদেশের গণস্বাস্থ্যসেবাচিত্র খুব একটা আশাপ্রদ নয়। এ নিয়ে বহু কথাবার্তা আছে। চিকিৎসক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীর অপ্রতুলতা, সরঞ্জামাদির অভাব, আন্তরিকতার ঘাটতি, বাজেট বরাদ্দের স্বল্পতা প্রভৃতি বিষয়গুলো এই নৈরাশ্যজনক স্বাস্থ্যচিত্রের জন্য দায়ী। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির জায়গাগুলোকে শক্তিশালী ও সক্ষম করার একটি আকাক্সক্ষা সর্বদাই সকলের মনে জাগ্রত থাকে। এই আকাক্সক্ষার জায়গায় একটি আধুনিক সুবিধা সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্স হয়ত তেমন কিছুই নয় তবে এর মধ্য দিয়ে যতটুকু সুবিধা দান সম্ভব তা নিশ্চিত করা গেলে ভারত সরকারের দেয়া উপহার সার্থকতা পাবে।
অ্যাম্বুলেন্সটি দেয়া হয়েছে সুনামগঞ্জ পৌরসভাকে। এটি পৌরসভার নিয়ন্ত্রণে থেকে জরুরি রোগীদের আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহৃত হবে। এমন একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল দরকার যা আপাতত পৌরসভার নেই বলেই আমরা জানি। অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভারতীয় উপ হাইকমিশনারও বলেছেন এটি চালাতে একজন প্যারামেডিক্স ও চালক প্রয়োজন। তাই পৌরসভাকে দ্রুত অন্তত একজন প্যারামেডিক্স নিয়োগ দিতে হবে। পৌরসভায় এখন যেসব গাড়িচালক রয়েছেন তাদের মধ্য থেকে সবচাইতে দক্ষ ব্যক্তিকেই এই অ্যাম্বুলেন্স চালানোর দায়িত্ব দিতে হবে। উপযুক্ত জনবলের ব্যবস্থা করা না গেলে অ্যাম্বুলেন্সটি অকার্যকর পড়ে থাকবে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এরকম আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স দক্ষ জনবলের অভাবে গ্যারেজে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার খবর সংবাদপত্রসূত্রে জানা যায়। সুনামগঞ্জ পৌরসভার কর্মচঞ্চল ও জনবান্ধব মেয়র অনেক কষ্ট করে অ্যাম্বুলেন্সটি এনেছেন। এখন তিনি উপযুক্ত জনবলের ব্যবস্থা করে অ্যাম্বুলেন্সটির উপযুক্ত কার্যকারিতা নিশ্চিত করবেন বলে আমাদের দৃঢ় বিশ^াস রয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় উপযুক্ত ভূমিকা রাখতে পারলেই কেবল বাংলাদেশের প্রতি ভারতের মানবিক শুভেচ্ছা মহিমান্বিত হবে। এর ব্যত্যয় ভারত-বাংলাদেশ কারও কাম্য নয়।
এই প্রসঙ্গে আমরা মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আরেকটি বিষয় সামনে আনতে চাই। সেটি হলোÑ পৌরসভায় ছোট আকারে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করা যায় কিনা তা ভেবে দেখা। একজন মেডিক্যাল অফিসার ও একজন উপসহকারি মেডিক্যাল অফিসার দিয়েই এই সেবা চালু করা যায়। পৌরসভার বাসিন্দারা ছোটখাট অসুখ-বিসুখের সময় এই সেবাকেন্দ্র ব্যবহার করতে পারবেন। এতে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির বিষয়টি বেশ গতিশীল হবে। আমরা মনে করি পৌর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এটি শুরু করতে পারেন। এই নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পৌরবাসীর নিকট অতিশয় পছন্দের জায়গা হতে পারে। আশা করি পৌর মেয়র বিষয়টি ভেবে দেখবেন।