প্রতারকের ছোট ভাইও প্রতারক

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
বড় ভাই মাহবুবুল ইসলাম প্রতারণা করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি বাগিয়েছে। বড় ভাইয়ের দেখানো পথে হেঁটেছে তারই সহোদর ছোট ভাই মাহমুদুল ইসলাম। মাহমুদুলও প্রতারণা করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বড় ভাইয়ের প্রতারণার খবর সামনে আসার পর ছোট ভাইয়ের প্রতারণার বিষয়টিও সামনে এসেছে। দুজনেই ভিন্ন জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেখইজোড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন।
মাহাবুবুল ইসলাম ও মাহমুদুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলা সদরের ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের পাঁচপাইয়ের পাহাড়পুর এলাকায়। তাঁদের বাবা সাইফুল ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য এবং মা সাজেদা খানম ওই ইউনিয়নের বেতাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁরা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে স্থায়ীভাবে নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই এলাকায় বসবাস করছেন। কিন্তু মাহাবুবুল ও মাহমুদুল বেখইজোড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পোষ্য কোটায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন। বেখইজোড়া গ্রামে মাহাবুবুল ও মাহমুদুলের আপন খালার বাড়ি রয়েছে। সেই সুবাদে মাহাবুবুলের চাকরি জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে বেখইজোড়া গ্রামের পশ্চিম দিকে চার কাটা জায়গা ও মাহমুদুলের জন্য বেখইজোড়া গ্রামে আরও একটি ঘরসহ জায়গা কেনা হয়েছে। শুধুমাত্র চাকরি লাভের জন্য এমন কৌশল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবারের লোকজন। চাকরির নিয়োগপত্রে মাহবুবুলের বর্তমান ঠিকানা নেত্রকোনার সাতপাই ও মাহমুদুলের বর্তমান ঠিকানা বেখইজোড়া গ্রামে দেখানো হয়েছে।
বেখইজোড়া গ্রামে জমি থাকায় নিজেদের বেখইজোড়ার স্থায়ী বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন মাহাবুবুল ইসলাম। কিন্তু মাহাবুবুলের মা সাজেদা খানম জানিয়েছেন, চাকরি লাভের জন্য ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র পরিবর্তন করা হয়েছে।
পাইকুরাটি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মাহাবুবুল ও মাহমুদুল কেউ-ই বেখইজোড়ার বাসিন্দা নয়।’
পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, ‘চাকরির প্রয়োজনে অনেকেই দুই সেট করে নাগরিকত্ব সনদ নিয়েছে। অনেকে ছেলে-মেয়েই এলাকার বাইরে থেকে পড়াশোনা করে। তাদের সবাইকে চেনা সম্ভব নয়। নতুন করে তারা (মাহবুবুল ও মাহমুদুল) নাগরিকত্ব সনদ নিতে এলে আর দিবো না।’
রবিবার মুঠোফোন রিসিভ না করা হয় এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আব্দুর রহমানের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। তিনি কয়েকদিন আগে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য আমাকে জানিয়ে বলেছেন, ওই দুই ভাইয়ের যোগদান নেওয়া হবে না। পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রবিবার তারা যোগদান করেছে কি না তা জানতে পারিনি।’