প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগরেরা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
দেবীর দুর্গার ডান হাতে পরম যতেœ মাটি লাগাচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব সুভাস দাশ। বয়স যখন ১২ কিংবা ১৩ তখন থেকেই দেবীর প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। এতে তিনি পান নির্মল আনন্দ, স্বর্গীয় অনুভূতি। অবশ্য এর জন্য একটি সম্মানিও পান তিনি। তাঁর পাশেই কাজ কার্তিকের মাথার কাছে আলতো করে লেপে দিচ্ছিলেন একজন। এরপর ময়ূরের পেখম ঠিক করলেন। তিনি রতন দাশ। আরেকজন বাক্-প্রতিবন্ধী দীপ্ত দাশ (১২)। শিশু বয়সেই লেগে গেছেন প্রতিমা তৈরির কাজে। জ্যেষ্ঠ দু’জন কারিগরকে সমানে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিমা তৈরির এ দল এসেছেন তাহিরপুর থেকে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন সনাতন সংঘের প্রতিমা তৈরি তাদের ৭ম কাজ। জেলার বিভিন্ন জায়গায় আরও ৬টি প্রতিমা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই প্রতিমাশিল্পীরা। শুধু তারাই নন শান্তিগঞ্জ উপজেলার ২২টি ম-পে এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগরেরা।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২২টি ম-পের মাধ্যমে উদযাপন হবে শারদীয় দুর্গা পূজা। জয়কলস ইউনিয়নে ৮টি ম-পে দেবী দুর্গার আরাধনা করবেন ভক্তরা। পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে ৫টি, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে ৩টি, দরগাপাশা ও পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে ২টি করে মোট ৪টি, পাথারিয়া ও পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে ১টি করে মোট ২টি ম-পে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
দেবী দুর্গাকে বরণ করতে সারা দেশের ন্যায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায়ও প্রতিমা তৈরিসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভক্তকূল। পহেলা অক্টোবর শনিবার মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে দেবীর বোধন ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। ৫ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এবার দেবী দুর্গা আসছেন গজ বা হাতি চড়ে এবং গমন করবেন নৌকায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মতে, দেবী দুর্গা হাতির পিঠে চড়ে আগমনের অর্থ হচ্ছে শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা। অর্থাৎ চাষবাস ভালো হবে। ফল-ফসলে পরিপূর্ণ হবে পৃথিবী। আর নৌকায় গমনের অর্থ হচ্ছে জলবৃদ্ধি এবং শস্যবৃদ্ধি। এতে বন্যা হওয়ার পূর্বাভাস থাকে।
সজল সূত্রধর, সত্য সূত্রধর, রিংকু দেব বলেন, মায়ের আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি। মা আসবেন, মায়ের পায়ে অঞ্জলি দেবো এ অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছি। আমরা চাই, মা দুর্গা যেমন অসুরবিনাশ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তেমনি পৃথিবী থেকেও যেনো সকল অসুররূপী মানুষের বিনাশ হয়। এখন কারিগরেরা কাজ করছেন। চার-পাঁচ দিনের মধ্যে আশা করছি প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে।
শান্তিগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জ্যোতি ভূষণ তালুকদার ঝন্টু ও সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পা বলেন, প্রতিমা তৈরীর কারিগরেরা এখন খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। শত্রুমর্দন সনাতন সংঘের প্রতিমা যাঁরা তৈরি করছেন তাঁরা আরও ৬টি জায়গায় প্রতিমা তৈরি করছেন। অর্থাৎ আজ এখানে তো কাল ওখানে। ব্যাপক ব্যস্ত তারা। তবু আশা করছি ষষ্ঠীর দু’একদিন আগে আমাদের উপজেলার সব প্রতিমা তৈরি হয়ে যাবে। এ বছর আমাদের উপজেলায় ২২টি ম-পে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।