প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বিদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। গত শুক্রবার চোখের জলে বিদায় দিয়েছেন জগজ্জননী দেবী দুর্গাকে। সেই সঙ্গে আসছে বছর আবারও এই মর্ত্যলোকে ফিরে আসবেন মা- এই আকুল প্রার্থনাও জানিয়েছেন তারা।
অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ-কল্যাণ ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিরন্তর শান্তি-সম্প্রীতির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গত সোমবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজা শুরু হয়েছিল। তবে করোনার কারণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা আয়োজন করা হয়। এবার জেলার ৪১৯টি পূজাম পে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমা বিসর্জনের আগে সকালে অনুষ্ঠিত হয় দশমীবিহিত পূজা। পরম ভক্তি নিয়ে নিজ নিজ মনের বাসনা জানিয়ে দেবীর পায়ে সিঁদুর ছোঁয়ান নারীরা।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার আয়োজনে শহরের জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে শহরের বিভিন্ন পূজামন্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখতের উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।
বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু শান্তিপূর্ন ভাবে যথাযোগ্য মর্যদায় সনাতন ধর্মের সর্ব বৃহৎ দূর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার মোট ২৯টি মন্দিরের প্রতিমা শান্তিপূর্ণ ভাবে বিসর্জন করা হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ
শুক্রবার উপেজলার সুরমা, সুরমার শাখা নদী মহাসিং ও স্থানীয় একাধিক পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। বিসর্জনের পূর্বে উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ডাবর পয়েন্টে উপস্থিত হয়ে ডাবর সংলগ্ন মহাসিং নদীতে বিসর্জন দিতে আসা পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ত্রিনয়নী পূজা কমিটি, মহামায়া সংঘ ও সনাতন সংঘের ভক্তবৃন্দ সহ সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভ কামনা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি।
ডাবরে দুর্গা বিসর্জনের সময় উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ্ জামান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দোলন রানী তালুকদার, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নূরুল হক, শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল, শান্তিগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জ্যোতি ভূষণ তালুকদার ঝন্টু, সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পা, ইউপি সদস্য রনজিত সূত্রধর, সাবেক ইউপি সদস্য ধীরেন্দ্র পাল ধীরু, আওয়ামীলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন, শাহীন আহমদ, যুবলীগ নেতা কেশব দেব, মতিউর রহমান মতি, মো. জিতু মিয়া, অসিম পাল, রমা পাল, অপু চন্দ্র পাল, রুপন পাল, রানা পাল, দিবাকর পাল, শিমুল পাল, পরিমল পাল দিপঙ্কর পাল, জয় চক্রবর্তী প্রমুখ।
শান্তিগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৭টিতে ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।