প্রথম পর্যায়ে আসছে ৮ হাজার ৪শ ডোজ টিকা

স্টাফ রিপোর্টার
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সিলেটে আসছে করোনা ভ্যাকসিন। এরই মধ্যে সংক্রমণের হার ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় কোন কোন জেলায় কত সংখ্যক ভ্যাকসিন যাবে তাও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১০ লাখের বেশি ভ্যাকসিন পাবে সিলেট বিভাগ। এর মধ্যে হবিগঞ্জে দুই লাখ ১৭ হাজার ৫৩৮ জন, মৌলভীবাজারে এক লাখ ৯৯ হাজার ৮৪২ জন, সুনামগঞ্জে দুই লাখ ৫৭ হাজার দুজন, সিলেটে তিন লাখ ৫৭ হাজার ৬১৯ জন।
সিলেট বিভাগের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় ৩৭ কার্টন ভ্যাকসিন আসবে। এর মধ্যে ৭ কার্টন আসবে সুনামগঞ্জে। প্রতি কার্টনে ১২শ করে ভ্যাকিসিন থাকছে। সে হিসাবে সুনামগঞ্জে ৮ হাজার ৪শ ডোজ টিকা আসছে। এদিকে সিলেটে ৩৭ কার্টনের সাথে ৪ কার্টন বাড়তি আসবে। সে হিসেবে প্রথম পর্যায়ে ৪৯ হাজার ২শ ডোজ টিকা পাচ্ছে সিলেট।
সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন জানান, সুনামগঞ্জ জেলায় কোভিড-১৯ টিকা দেয়ার তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। টিকাদান কার্যক্রমের সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল সহ আরও ১ টি টিকাদান কেন্দ্র থাকবে। এছাড়াও প্রতি উপজেলায় ২টি করে টিকা দান কেন্দ্র থাকবে।
সুনামগঞ্জে করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে গত ১৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক মো জাহাঙ্গীর হোসেন’র সভাপতিত্বে জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জানায়, গত ২৫ জানুয়ারি সোমবার ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে দেশে এসেছে প্রায় ৫০ লাখ ডোজ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন। এরমধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন আসবে সিলেট বিভাগে। টিকাদানে কেন্দ্র প্রতি থাকবেন ২ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ৪ জন স্বেচ্ছাসেবক। টিকাদান পরবর্তী পর্যবেক্ষণের জন্য ৭ সদস্যের মেডিক্যাল টিম থাকবে।
সিলেটের বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, সিলেট বিভাগের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় ৩৭ কার্টন ভ্যাকসিন আসবে। প্রতি কার্টনে ১২শ করে ভ্যাকিসিন থাকছে। এরপর ৪ কার্টন বাড়তি আসবে। সে হিসেবে প্রথম পর্যায়ে ৪৯ হাজার ২শ ডোজ টিকা পাচ্ছে সিলেট।
তিনি বলেন, প্রথম চালানে সিলেট বিভাগে আসা ৩৭ কার্টন ভ্যাকসিনের মধ্যে ৫ কার্টন মৌলভীবাজারে, ৬ কার্টন হবিগঞ্জে ও ৭ কার্টন যাবে সুনামগঞ্জে। বাকিগুলো সিলেট জেলার জন্য থাকবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন পরিকল্পনায় দেখা গেছে, সিলেট বিভাগে ১০ লাখ ৩২ হাজার এক জনকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ জনকে, চট্রগ্রাম বিভাগে ২৯ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৩ জনকে, রাজশাহী বিভাগে ১৯ লাখ ২৪ হাজার ৯২২ জনকে, রংপুর বিভাগে ১৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯ জনকে, খুলনায় ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪৬ জনকে এবং বরিশাল বিভাগে ৮লাখ ৬৬ হাজার ৯৯৪ জন টিকা পাবেন।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিকভাবে আসা ভ্যাকসিন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন ফ্রান্টলাইনার যুদ্ধাসহ ১৫ ক্যাটাগরিতে। এরমধ্যে সরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় জড়িত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরঙ্গনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি সচিবালয়ে, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, পৌর-সিটি করপোরেশনের সম্মুখসারির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কবরখনন ও মৃত ব্যক্তির সৎকারকারীরা রয়েছেন এর আওতায়।