প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ মাঠের এই ফুটবল যেনো আর কখনও মাঠ ছাড়া না হয়

বহুদিন পর সুনামগঞ্জের ক্রিড়াঙ্গন থেকে একটি ভালো খবর পাওয়া গেলো। সুনামগঞ্জ জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের আয়োজনে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ। লীগে ১০টি টিম অংশগ্রহণ করছে। টিমগুলোর নাম দেখে শিহরিত হতে হয়। কারণ এই ক্লাবগুলোর নাম বয়স্কদের মনে এখনও জ্বলজ্বল করে। সেই মোহামেডান, আবাহনী, শাহবাগ…। নতুন ক্লাবও রয়েছে বেশ কয়েকটি। এইসব নাম একসময় উন্মাদনা তৈরি করতো জেলার ক্রিড়ামোদীদের মনে। টিকেট কেটে হৈ-হুল্লুড় করে ফুটবল খেলা দেখার সেই রোমাঞ্চিত দিনগুলো হারিয়ে গিয়েছিল। ২০০৪ সনের পর জেলায় প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ হয়নি। ২০১৩ সনে একবার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু মাঝপথে থেমে যায়। ভাবা যায়, একটি জেলা সদরে ফুটবল এসোসিয়েশন আছে, ক্রিড়াসংস্থা আছে, স্টেডিয়াম আছে; কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক কোনো লীগ বা টুর্নামেন্ট নেই? সেই খড়া ঘুচানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান ফুটবল এসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ। এজন্য তাঁদের প্রাণঢালা অভিনন্দন।
বিশ্ব ফুটবল, এশিয়ান ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান খুব বেশি ভালো নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় কিছুটা ভালো অবস্থান রয়েছে বাংলাদেশের। সম্প্রতি সাফ চ্যাম্পিয়নশীপে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ফুটবল নিয়ে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সারা দেশের মানুষ যেভাবে নারী ফুটবলারদের অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসিয়েছেন তাতে এখনও যে ফুটবলই দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় খেলা তা আবার প্রমাণ করেছে। আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক পরিসরে যেকোনো প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল করার পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে একটি শক্ত ফুটবল জাগরণ। এখন বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল লীগ নিয়মিত হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী ফুটবলারদের নিয়ে আয়োজিত বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমেই আমাদের বর্তমান জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিকাংশ খেলোয়ারের উদ্ভব ঘটেছে। এরকম প্রতিযোগিতাভিত্তিক ফুটবল যদি সর্বত্র থাকতো তা হলে আমরা প্রচুর মানসম্মত খেলোয়ার পেতাম যাদের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের অবস্থার উন্নতির চেষ্টা শুরু করা যেতো। কিন্তু সারাদেশেই ফুটবলের একটা হতাশাজনক অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। যে কারণে আমরা বিশ্ব ফুটবল আসরে অপাঙক্তেয় অবস্থায়ই রয়ে গেছি।
সুনামগঞ্জ জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন আয়োজিত প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগটি সফল ও সুন্দরভাবে শেষ হোক এই আমাদের কামনা। এজন্য এসোসিয়েশনকে কঠোর নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা দেখতে হবে। বাজে রেফারিং দেশব্যাপী একটি বড় সমস্যার নাম। এই বাজে রেফারিংয়ের পিছনে ফুটবল কর্তাদের অদৃশ্য ইন্ধন থাকে বলেও আমরা জেনেছি। শুধুমাত্র পক্ষপাতমূলক রেফারিংয়ের কারণে মাঠে সহিংসতা ঘটে, ভালো দলের জয় ছিনিয়ে নিয়ে মুখ দেখে মুগের ডাল বিতরণ করা হয়। এটি দেশের ফুটবল অগ্রগতির একটি বড় অন্তরায়। সুনামগঞ্জের প্রথম বিভাগে যাতে রেফারিংয়ের এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেখা না যায় সে ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য আমরা কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।
এই লীগের সফলতার উপর নির্ভর করে পরবর্তীত আরও বেশি বেশি প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট আয়োজন হওয়ার বিষয়টি। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে এই লীগের গতিপ্রবাহের দিকে লক্ষ্য রাখছি। খেলাধুলা হলো তরুণ জনগোষ্ঠীকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করার অন্যতম উপকরণ। উপযুক্ত ক্রিড়া পরিবেশের অভাবে ওই তরুণ জনগোষ্ঠী আর কিছু করতে পারার সুযোগ না পেয়ে নিজের ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর নানা প্রবণতার সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। তাই আমরা সর্বাবস্থায় সারা দেশে খেলাধুলা, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকা-ের ব্যাপক প্রসার কামনা করি। এজন্যই আমরা দীর্ঘদিন পর যে আবার ফুটবল মাঠে গড়াতে পারলো সেজন্য আনন্দ বোধ করছি। আমরা চাই মাঠের এই ফুটবল যেনো আর কখনও মাঠ ছাড়া না হয়।