প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা

স্টাফ রিপোর্টার
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান এবং সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নোয়াগাঁও গ্রামে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ৩২ বান্ডিল টিন এবং ৭ মেট্রিক চাল বিতরণ করেছেন তারা। এসময় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম, শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মামুন, শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদীর হোসেন, দিরাই থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম, শাল্লা থানার ওসি নাজমুল হক প্রমুখ উপস্থিত।
সহায়তা তুলে দেবার সময় উপস্থিত গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, আমরা জাতিরপিতার জন্ম শতবার্ষিকী পালন করছি। জাতিরপিতার জন্মদিনে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এদের পরিচয় কি, এরা কারা, এটি আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। আমাদের আসল শত্রু কারা, সেটি চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, আপনাদের উপর এই ঘটনায় আমরাও কষ্ট পেয়েছি। সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও কষ্ট পেয়েছেন। সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা সব সময় মনিটরিংয়ে রাখবো এই এলাকাকে।
সিলেট বিভাগের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনা ঘটার সাথে সাথে ২ টি মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ২২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসন আবারও প্রমাণ করলো, বাংলাদেশে যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা হবে। তিনি গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের যারা কষ্ট দিয়েছে, তারা এর চেয়ে বেশি কষ্ট পাবে।
একই সময়ে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা তুলে দেন।
জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থকরা ১৭ মার্চ বুধবার নোয়াগাঁও গ্রামের ৮৮ টি বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করেছে। এসময় গ্রামের ৫ টি মন্দির ভাংচুর করা হয়। নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামনুল হককে কটাক্ষ করে কথিত স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সকাল ৯ টায় এই তা-ব চালানো হয়।
এর আগে ১৫ মার্চ গত সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই স্টেডিয়ামে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্য দেন। এসময় ধর্মীয় উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন মামুনুল হকসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা।