বাড়িতে থেকেই সংশোধিত হবে ১৪ শিশু

স্টাফ রিপোর্টার
জেলা শিশু আদালতে বুধবার পৃথক ১০টি মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলার আসামি ছিল ১৪ জন শিশু। তাদের প্রত্যেকের সাজা হয়েছে এক বছর করে। কিন্তু তাদের কারাগারে যেতে হবে না। নিজ বাড়িতে থেকেই সংশোধিত হবে তারা। তবে এ সময় প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে তাদের কিছু শর্ত পালন করতে হবে।
জেলার শিশু আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন বুধবার দুপুরে এসব মামলায় এই ব্যতিক্রমী রায় ঘোষণা করেন। ‘দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অরডিন্যান্স ১৯৬০’ এবং ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৩৪ (৬) ধারায় আদালত এই রায় দিয়েছেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের শিশু আদালতের পিপি নান্টু রায়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রবেশনে দেওয়া এসব শিশুদের বিরুদ্ধে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে টাকা গ্রহণ, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একজনের ছবির সঙ্গে অন্যের ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে অশ্লীল ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, শ্লীলতাহানি, মাদক রাখা, জুয়াখেলা, পুলিশের কাছে বাধা প্রদান ও আসামি পলায়নে সহযোগিতা করা এবং মারামারির অভিযোগ ছিল।
আদালতের বিচারক রায়ে প্রবেশনকালীন সময়ে যেসব শর্ত পালনের কথা উল্লেখ করছেন সেগুলো হলো, বাবা-মায়ের আদেশ-নির্দেশ মানা, তাঁদের সেবাযতœ করা, ধর্মীয় অনুশাসন মানা এবং নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা, প্রত্যেককে কম পক্ষে ২০টি করে গাছ লাগানো এবং গাছের পরিচর্যা করা। অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে না জড়ানো।
জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান বলেছেন, প্রবেশনকালীন সময়ে এই শিশুরা শর্তগুলো যথাযতভাবে পালন করছে কি-না সেটির তত্ত্বাবধান করা আমার দায়িত্ব। পাশাাপাশি অভিভাকদেরও দায়িত্ব রয়েছে এসব শর্ত পালনে তাদের সহযোগিতা করা, পাশে থাকা। তিন মাস পরপর আদালতে এ বিষয়ে আমাকে প্রতিবেদন দিতে হবে।