প্রায় চার হাজার অগভীর নলকূপে পানি ওঠছে না

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের প্রায় চার হাজার অগভীর নলকূপে পানি না ওঠায় বিপাকে পড়েছেন লাখে মানুষ। পুকুর, বিল ও নদীর পানি শুকিয়ে পান করছেন এসব এলাকার মানুষ।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়নেই বিশুদ্ধ পানির সংকটে আছেন মানুষ। সব চেয়ে বেশি সমস্যায় সুনামগঞ্জ পৌরসভা, কোরবাননগর, মোল্লাপাড়া, সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে তিন থেকে পাঁচ’শ টিউবওয়েলে পানি ওঠছে না।
এই উপজেলার কোরবাননগর ইউনিয়নের কোরবাননগর গ্রামের সোনা মিয়া বললেন, কোরবাননগরে ৩৫ পরিবারের বাস। গ্রামে সরকারি টিউবওয়েল আছে ৪ টি, এরমধ্যে ৩ টিউবওয়েল দিয়ে পানি না ওঠায় সমস্যায় পড়েছেন তারা। অনেক দূরে থাকা টিউবওয়েলে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয় পানি আনার জন্য।
কোরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বরকত বললেন, আমার ইউনিয়নে ৮’শ এর মতো টিউবওয়েল আছে। এরমধ্যে ৫০০ টিউবওয়েলেই এই সময়ে অর্থাৎ শুস্ক মওসুমে পানি ওঠে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মাত্র ১৫ টি সাবমার্চেবলযুক্ত টিউবওয়েল কয়েকমাস আগে বসানো হয়েছে। টিউবওয়েলগুলোয় পানি না ওঠায় নদী, পুকুর, বিলের পানি ফুটিয়ে পান করছেন মানুষ।
সুরমা ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের চিকিৎসক ডা. রৌশন ইসলাম, মনির হোসেন, ইমান হোসেন, ইউসুফ আলী, সিদ্দিকুর রহমান, রুহুল আমিনসহ অনেকে জানান, এলাকার প্রায় সবকয়টি অগভীর নলকূপে পানি উঠা বন্ধ হয়ে গেছে। এই কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পুকুর ও বিলের পানি ফুটিয়ে ফিটকিরি দিয়ে খাবার পানি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বেশিরভাগ পরিবারে। সাংসারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পুকুর ও বিলের পানি। একারণে পেটের পীড়া, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।
বাঘমারা গ্রামের মতিউর রহমান, মুহাম্মদ আলী, আব্দুল বারীকসহ অনেকে জানান, তাঁদের এলাকায় অগভীর কোনো নলকূপে পানি উঠছে না। পুকুরের পানি ফুটিয়ে খাবার পানি হিসাবে ব্যবহার করছেন তারা।
সুনামগঞ্জের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বললেন, বছরের পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র মাস পর্যন্ত অনেক টিউবওয়েলে পানি ওঠে না। পানি স্তর ঠিক থাকলেও টিটিতলা বা ওয়াটার টেবিল নীচে নামায় এই সমস্যা হচ্ছে। যেখানে নগরায়ন বেশি হয়েছে, সেখানে এই সমস্যা বেশি। তিনি জানালেন, জেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৫ হাজার ৮৭৫ টি টিউবওয়েলের তিন হাজার ৭৪৩ টি অকেজো। এরমধ্যে ওয়াটার টেবিল নীচে নামায়ই অকেজো হয়েছে বেশি টিউবওয়েল। এই প্রকৌশলী জানান, জেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে ৬২ টি করে অগভীর নলকূপ বরাদ্দ হয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর ও ছাতক উপজেলায় বরাদ্দকৃত নলকূপগুলো সাবমার্চেবুলযুক্ত।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশারফ হোসেন বললেন, ওয়াটার টেবিল নীচে নামার পাশপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির স্তরও নীচে নেমে গেছে। তিনি জানালেন, সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ১০ বছর আগেও ৫০০ ফুট গভীরে গেলে বিশুদ্ধ পানি ওঠতো। এখন যেতে হয় ৮০০ ফুট গভীরে। সুনামগঞ্জ শহরে পৌরসভার ৭২৫ টি টিউবওয়েলের ৪০০ টিই অকেজো জানিয়ে এই প্রকৌশলী বললেন, সাবমার্চেবুল টিউবওয়েল বসানোর কোন প্রকল্প সুনামগঞ্জ পৌরসভার আপাতত নেই। সাবমার্চেবুল টিউবওয়েল বসানোর কোন বরাদ্দও পাওয়া যায় নি।