- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

ফসলরক্ষা বাঁধে নিয়মবহির্ভূত পাইপের ব্যবহার

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
এখানে আগে কোনো ফসলরক্ষা বাঁধ ছিল না। এবারেই নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। হাওরের বোরো ফসল যাতে পানিতে তলিয়ে না যায় সেজন্যই নির্মাণ করা হয় ফসলরক্ষা বাঁধ। কিন্তু একটি প্রকল্পে বাঁধের ভেতর দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশের সুযোগ করে দিতে মোটা প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি দাবি করেছেন জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশন করতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে করে সহজেই পাইপ দিয়ে পানি হাওরে প্রবেশ করে ফসল তলিয়ে যেতে পারে। ধর্মপাশা উপজেলার গোড়াডোবা হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের ১৪৯ নম্বর প্রকল্পের এমন আত্মঘাতী কাজ স্থানীয় কৃষকদের মাথায় চিন্তার বাজ ফেলেছে। স্থানীয় কৃষকসহ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা এ কাজের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদাসীনতা ও নজরদারী না করাকেই দায়ী করেছেন।
পাউবোর অধীনে ১৪৯ নম্বর প্রকল্পে ২৮৫ মিটার কাজের জন্য ১৮ লাখ ৮১ হাজার ১৬৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য নান্টু লাল সরকারকে সভাপতি ও বিপ্লব তালুকদারকে সদস্য সচিব করা হয়। কাজের ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি তারা। এ কাজ করতে গিয়ে বাঁধের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে খালি মাঠে জলাবদ্ধতা তৈরি আশঙ্কা রয়েছে। তাই তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধে একটি প্লাস্টিকের মোট পাইপ ব্যবহার করেছেন। হাওরের কৃষকেরা জানিয়েছেন, ফসলরক্ষা বাঁধে সামান্য গর্তের সৃষ্টি হলে যেখানে বাঁধ টিকিয়ে রাখা যায় না সেখানে প্লাষ্টিকের মোটা পাইপ ব্যবহার করায় পানির অল্প চাপেই পুরো বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওই প্রকল্পের সভাপতি নান্টু লাল সরকার বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ ধরা (কাজে অন্তর্ভূক্ত) নেই তবুও পাইপ দিয়েছি। আমরাতো এলাকার তাই কোনটা ভালো হবে কোনটা মন্দ হবে তা সম্পর্কে আমাদের ভালো জ্ঞান আছে।’
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘পাউবোর তদারকির অভাব ও উদাসীনতার কারণেই পিআইসিরা যে যার মতো কাজ করে যাচ্ছে। তা না হলে যেখানে পানি থেকে ফসল বাঁচাতে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে আবার হাওরে পাইপ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশর সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। যা সত্যিই দুঃখজনক।’
ধর্মপাশার দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘বাঁধে পাইপ ব্যবহারের সুযোগ বা নিয়ম নেই। পাইপটি দ্রুত অপসারণের পিআইসিকে বলা হয়েছে।’

  • [১]