ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
নৌযান চলাচল ও হাওরে পানি প্রবেশ করানোর অজুহাতে ধর্মপাশায় ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে দিয়েছেন মোকাররম হোসেন তালুকদার নামের এক ইউপি চেয়ারম্যান। তবে অভিযুক্ত সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ওই চেয়ারম্যান দাবি করেছেন উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ফসলরক্ষা বাঁধ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) লোকজন কেটে দিয়েছেন। এদিকে উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব বাঁধ কাটার বিষয়টিকে জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত বললেও সভাপতি জানিয়েছেন উপজেলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চেয়ারম্যান বাঁধটি কাটিয়েছেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেক সদস্যই জানেন না।
কেটে দেওয়া ফসলরক্ষা বাঁধটি উপজেলার চন্দ্রসোনার থাল হাওরের মুক্তারপুর ফেরীঘাটে অবস্থিত। পাউবো ০.৮১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের জন্য ৫৬ নম্বর প্রকল্পের অধীনে ১৯ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৪.৮২ টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু গত রোববার বাঁধের গুরুত্ব অংশ কেটে দেওয়া হয়। নৌযান চলাচল ও মাছ শিকারের জন্য কখনও কখনও দুবৃর্ত্তরা বাঁধটি কেটে দেয়। ফলে প্রতি বছরই বাঁধটি মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গেল বছর বাঁধটি কেটে দেওয়ার ফলে চন্দ্রসোনার থাল হাওরের কৃষকেরা ডেমি (ধান কাটার পর ধান গাছে দ্বিতীয়বার জন্মানো ধান) তুলতে পারেনি।
উপজেলা কমিটির কৃষক প্রতিনিধি মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, বাঁধ কেটে দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সভা হয়নি।
৫৬ নং পিআইসির সভাপতি শাহ আলম বলেন, ‘এসও (উপ—সহকারী প্রকৌশলী) আমাকে বলছে বাঁধটি কাটার জন্য। পরে আমি দৌলতপুর গ্রামের লোকদের বাঁধ কেটে দেওয়ার জন্য বললে গ্রামের লোকেরা গ্রামের স্বার্থে বাঁধ কেটে দিয়েছে।’
ইউপি চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন তালুকদার বাঁধ কাটেননি জানিয়ে বলেন, ‘উপজেলার কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সব পিআইসিকে বাঁধ কেটে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ দিক (বাঁধের কেটে দেওয়া অংশ) এখান দিয়ে নৌকা চলে, স্পিডবোট চলে। জয়ধনা, ধানকুনিয়া, সোনামড়ল হাওরেও বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হয়েছে।’
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘মাত্র আধা কিলোমিটার দূরত্বে যেখানে একটি ভাঙা বাঁধ রয়েছে সেখানে নতুন করে বাঁধ ভেঙে দেওয়ার অর্থ হলো আগামী বছর নতুন প্রকল্প তৈরি এবং সরকারের টাকা অপচয় করার একটি কৌশল। জেলের মাধ্যমে মাছ ধরিয়ে আরেক ধরনের বাণিজ্য চলবে এখানে।’
উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব ও সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ—সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, ‘হাওরে পানি প্রবেশ করানো ও নৌ চলাচলের জন্য এ বাঁধটি প্রতিবারই কাটা হয়। উপজেলা কমিটির সভা না হলেও কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাঁধ কাটা হয়েছে। জেলা কমিটি থেকেও বাঁঁধ কাটার জন্য বলা হয়েছে। মোকাররম চেয়ারম্যান বাঁধ কাটিয়েছেন।’
উপজেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইউএনও মুনতাসির হাসান বলেন, ‘জেলা কমিটি নয়; উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চেয়ারম্যান বাঁধটি কাটিয়েছেন।’