২৮ দিন ধরে মিলছে না প্রসব সেবা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
যেখানে নেই কোনো হাসপাতাল কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। রোগীর রোগ নির্ণয়েও নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। সর্দি-কাশি, জ্বর, মাথা ব্যাথার চিকিৎসায় ভরসা স্থানীয় ফার্মেসি। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে হাসপাতালে নিতে গিয়ে চিকিৎসার অভাবে যেখানে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু ঘটতো সেখানেই কয়েক বছর ধরে নারীদের নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থাসহ সেবা মিলতো ছোটখাটো অসুখ বিসুখের। কিন্তু গত ২৮ দিন ধরে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়ায় অবস্থিত ফুলেন্নেছা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের এমন স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ রয়েছে। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একমাত্র সহকারী নার্সিং অ্যাটেন্ডেন্ট সূর্যমণি আক্তার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে স্থানীয় নারীরা গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ প্রসব নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।
মধ্যনগর থেকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সড়ক পথে পৌঁছাতে প্রায় ৪৫ মিনিট, চামরদানী ইউনিয়ন থেকে ট্রলারযোগে মধ্যনগর হয়ে ধর্মপাশা যেতে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘন্টা, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন থেকে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘন্টা ও বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন থেকে প্রায় তিন থেকে চার ঘন্টা সময় লাগে। বর্ষাকালে দীর্ঘ সময় পার করে রোগী নিয়ে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছাতে পারলেও হেমন্তকালে ওই ইউনিয়নগুলো থেকে মধ্যনগর আসতেই যথাক্রমে ২-৩ ঘন্টা সময় লাগে। ফলে মধ্যনগর অঞ্চলের মানুষজন মুমুর্ষূ রোগী নিয়ে চলে যান নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তাই মধ্যনগরের চার ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় থেকে মধ্যনগর ও বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়ায় পৃথকভাবে ১০ শয্যা করে দুটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করে। নির্মাণ কাজ শেষ হলেও লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় মা ও শিশু স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ধর্মপাশা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে স্বল্প পরিসরে দুটি কেন্দ্রেই স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন চিকিৎসা কর্মকর্তা, ৪ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ১ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ১ জন ফার্মাসিস্টসহ আরও কয়েক থাকার কথা। কিন্তু ফুলেন্নেছা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এতোদিন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ ইউনিট থেকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী নার্সিং অ্যাটেন্ডেন্ট সূর্যমণি আক্তার এই সেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সূর্যমণি আক্তার গত ছয় মাসে ১০৪ জন নারীর নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু গত ১৫ অক্টোবর থেকে সূর্যমণি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। এর আগে তিনি আরও এক সপ্তাহ ছুটিতে ছিলেন। ফলে আবারও ওই এলাকার মা ও শিশু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। এখন গর্ভবতী নারীদের বাধ্য হয়ে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ বলেন, ‘বিশেষ করে নারীদের গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ প্রসবের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এখানে একজন দক্ষ প্রসব সেবাদানকারী পদায়ন করা উচিত।’
ধর্মপাশা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) ডা. মিজানুর রহমান রনি বলেন, ‘বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত এখানে একজন মিডওয়াইফ (দক্ষ প্রসব সেবাদানকারী) প্রদান করা হবে বলে আমাকে আশ্বস্থ্য করা হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক বিকাশ কুমার দাসের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে গত বৃহস্পতিবার কল করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। শুক্রবার বিকেলে আবারও কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ না করে কেটে দেন। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।