বখাটের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় লাঞ্ছিত এনজিও কর্মী

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজারে রইছ মিয়া নামের এক বখাটের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন এক এনজিও কর্মী। সম্প্রতি উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের মাঠগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দোয়ারাবাজার থানায় বখাটের বিরুদ্ধে মামলা এজহারভুক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সীমান্তের লক্ষীপুর ইউনিয়নের মাঠগাঁও গ্রামের এক দিনমজুরের স্ত্রী এনজিও কর্মী হিসাবে কাজ করেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধাত্রীর কাজ করেন তিনি। একই গ্রামের আবদুল মোতালেবের বখাটে পুত্র রইছ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করে আসছে। বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে কুপ্রস্তাবসহ তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে আসছিল সে। ওই নারী এনজিওকর্মী তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রায় সময় তাকে মোবাইল ফোনে এবং পথরোধ করে হুমকি ধামকীসহ অশালীন আচরণ করে। এসব ঘটনায় স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বিচারও করা হয়। গত সোমবার নারী এনজিও কর্মী কাজে বের হলে বখাটে রইছ মোবাইলে ফোন দিয়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওত পেতে থাকা রইছমিয়া তার উপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে টানাহ্যাচড়া করে তার শ্লীলতাহানি ঘটায়। এসময় ডেলিভারি কাজে ব্যাবহৃত মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জমাদি এবং নগদ ২৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওষুধপত্রসহ মেশিন অন্যান্য জিনিসপত্র সম্পূর্ণ আগুন দিয়ে জালিয়ে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, রইছ মিয়া এলাকার এক চিহ্নিত বখাটে ও মাদক ব্যাবসায়ী। সে সীমান্ত এলাকার এক ত্রাস হিসেবে চিহ্নিত। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে চোরাই কারবারী সিন্ডিকেটের সাথে সক্রিয় রয়েছে সে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন এবং চোরাকারবারির সাথে জড়িত থেকে নানা অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে।
জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর বলেন, বখাটে রইছ মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকে দ্রত গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।