বছরে তিনরূপ ধারণ করে যে সড়ক

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ-হলিকোণা সড়ক সংস্কারের অভাবে বছরজুড়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের জনসাধারণ।
স্থানীয়রা জানান, অনেক বছর পূর্বে এলজিইডি কর্তৃক প্রায় ৭ কিলোমিটার লম্বা রানীগঞ্জ-হলিকোনা সড়ক নির্মাণ করা হয়। এরমধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ করা হয়েছে।
এ সড়ক দিয়ে উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ইসমাইল চক, সালদিকা, স্বজনশ্রী, বাউধরন, খাগাউড়া,গোপড়াপুর ও পাশ্ববর্তী দিরাই উপজেলার হাতিয়া, নাচনি, সুরইয়াপাড় গ্রামের জনসাধারণ প্রতিনিয়ত জগন্নাথপুর উপজেলা সদর ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সড়কটি সংস্কারহীন হয়ে পড়ায় সারা বছরই জনদুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সম্প্রতি বাউধরন এলাকার শাহ আলম নামে এক যুবক তার ফেসবুক আইডিতে তিনটি ছবি পোস্ট করে লিখেন উপজেলার সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী একমাত্র যাতায়াতকারী সড়কটি ছয় ঋতুর দেশে তিন রূপ ধারণ করে। ধুলোবালি, হাঁটু সমান কাদামাটি আর পানিতে সড়কে অবর্ণনীয় কষ্ট আর যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় লোকজনকে।
খাগাউড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন, রানীগঞ্জ-হলিকোণা সড়ক দিয়ে আমাদের ইউনিয়নের ছয় থেকে সাতটি গ্রামের লোকজন ও দিরাই উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কে কয়েকবছর ধরে কোন সংস্কার কাজ না হওয়ায় সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে আমরা। বার বার কর্তৃপক্ষকে সংস্কারের দাবী জানিয়ে আসলেও দাবিটি উপেক্ষিতই রয়েছে।
বাউধরণ গ্রামের কবির আহমদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে সড়কের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। আবার হেমন্তে ধুলোবালি আর বৃষ্টি মৌসুমে কাদাযুক্ত হয়ে পড়ে সড়কটি। যেকারণে এলাকার শিক্ষার্থীসহ পথচারিরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয় চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনেকবার অনুরোধ করেছি। সড়কের জনদুর্ভোগ কিছুটা কমাতে আমি কিছু কিছু ইটের সুরকি দিয়ে মেরামত করেছি। আশা করছি, এবার সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে জগন্নাথপুরের উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম সারোয়ারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের করেও তাঁর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলজিইডির একটি সূত্র জানায়, সড়কটি সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজটি সুনামগঞ্জের এক ঠিকাদার পেয়েছেন। অচিরেই সড়কের কাজ শুরু হবে বলে ওই সূত্রে জানা গেছে।