বন্যার প্রায় ৪ লক্ষ গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার
সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সারাদেশের সাথে সুনামগঞ্জের যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ে। পানিবন্দি হয়ে পড়েন ১২ লাখেরও বেশি মানুষ। জীবন বাচাঁতে ঘর-বাড়ি ফেলে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন লাখো মানুষ। অনেকে গৃহপালিত প্রাণি নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যান। এরপরও গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, মহিষ সহ মারা যায় ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫২৮টি গৃহপালিত প্রাণি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, বন্যার পানিতে সুনামগঞ্জের ১২ টি উপজেলায় ৪২২ টি গরু, ৩৭ টি মহিষ, ৬৬৯ টি ছাগল, ৫১৪ টি ভেড়া, ৯৭ হাজার ৮৩১ টি হাঁস, ২ লক্ষ ৮৮ হাজার ৫৫ টি মুরগী সহ মোট ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫২৮ টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৮০টি গরু, ১২টি মহিষ, ৭০টি ছাগল, ৫০টি ভেড়া, ১২ হাজার হাঁস, ১ লক্ষ ২০ হাজার মুরগী সহ মোট ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২১২ টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়।
ছাতক উপজেলায় ৬৫টি গরু, ১২টি মহিষ, ১১০টি ছাগল, ৯৫টি ভেড়া, ৩ হাজার ৫০০ হাঁস, ১২ হাজার মুরগী সহ মোট ১৫ হাজার ৭৮২ টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৪৫টি গরু, ৫টি মহিষ, ৬৫টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১১ হাজার ৫০০ হাঁস, ১০ হাজার ২০০ মুরগী সহ মোট ২১ হাজার ৮৫৫ টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলায় ২১টি গরু, ৫টি মহিষ, ৩২টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ৭ হাজার ৩৩০টি হাঁস, ৫ হাজার ৪৭০ মুরগী সহ মোট ১২ হাজার ৮৫৩ টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়।
জামালগঞ্জ উপজেলায় ৫৭টি গরু, ৫টি মহিষ, ১২৭ টি ছাগল, ১৯৫টি ভেড়া, ২২ হাজার হাঁস, ৭ হাজার মুরগী সহ মোট ২৯ হাজার ৩৭৯ টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২৬টি গরু, ৬টি মহিষ, ৮৫টি ছাগল, ৭৩টি ভেড়া, ১ হাজার ৭০০ হাঁস, ৭ হাজার মুরগী সহ মোট ৮ হাজার ৮৯০ টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়।
দিরাই উপজেলায় ১৩ টি গরু, ৬টি মহিষ, ২৭টি ছাগল, ৭৩টি ভেড়া, ২২ হাজার হাঁস, ৭ হাজার ১০০ মুরগী সহ মোট ২৯ হাজার ১৪০ টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়।
শাল্লা উপজেলায় ২১টি গরু, ২টি মহিষ, ৩২ টি ছাগল, ৭৩টি ভেড়া, ৪ হাজার হাঁস, ২ হাজার ৫০০ মুরগী সহ মোট ৬ হাজার ৫৫৫ টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়।
তাহিরপুর উপজেলায় ৪৭টি গরু, ২টি মহিষ, ৬৮টি ছাগল, ৭৩টি ভেড়া, ৫ হাজার ৪৩০ হাঁস, ৩ হাজার ২৮৫ মুরগী সহ মোট ৮ হাজার ৮৩০টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়।
ধর্মপাশা উপজেলায় ১৫ টি গরু, ২ টি মহিষ, ১০টি ছাগল, ৪টি ভেড়া, ৪ হাজার ১৩৫ হাঁস, ১হাজার ৫০০ মুরগী সহ মোট ৫ হাজার ৬৬৩টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়।
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৩২টি গরু, ২ টি মহিষ, ৪৩ টি ছাগল, ৫৮টি ভেড়া, ৪ হাজার ২৩৬ টি হাঁস, ১ লক্ষ ১২ হাজার মুরগী সহ মোট ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৬৯ টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়।
এদিকে বন্যায় বিপুল সংখ্যক গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের মানুষ। তারা জানান, বন্যার পানিতে ঘর বাড়ি সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সেই সাথে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী। এখন আমাদের চলাই বড় দায়। না আছে ঘরবাড়ি, না আছে গরু, ছাগল। এখন আমরা পথের ভিখারী হয়ে গেলাম। বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত হামিদ মিয় বলেন, কষ্ট করে দুই গরু কিনেছিলাম। দুই গরুই মরে গেছে। এখন আমরা চলা বড় দায়।
বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত রুকন মিয়া বলেন, ছেলে মেয়েকে আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে এসে দেখি গোয়াল ঘরে থাকা আমার ৫টি গরুর মধ্যে ৩টি ভেসে গেছে। দুইটা গরু নিয়ে কোন রকম আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে গেছি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সুনামগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫২৮টি গৃহপালিত প্রাণির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও সুনামগঞ্জে ইতিমধ্যে গরুর গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে ৯০০ মেট্রিক টন গো-খাদ্য ও ওষুধ চেয়েছি জেলা প্রশাসনের কাছে।