বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নির্মিত ঘর হস্তান্তর

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে সাম্প্রতিক কালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রামের বেসরকারী সংগঠন ‘মুসাইদাহ ফাউন্ডেশন’। শুক্রবার সংগঠনের অর্থায়নে ২টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হলে পরিবারের লোকজনের মধ্যে এই ঘর হস্তান্তর করেন সংগঠনের সদস্যরা।
ওইদিন দুপুরে সৈয়দপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ইব্রাহীম মিয়া ও স্ত্রী মোছা. রোশেনা আক্তারকে এবং গ্রামের উত্তরপাড়ার হানিফ মিয়া ও স্ত্রী নাজমা আক্তারকে নবনির্মিত ঘর উপহার দেন মুসাইদাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মো. আবু হাসান। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের এই ঘর নির্মাণে সার্বিক তদারকি করেন সৈয়দপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম রাসেল।
ওইদিন ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য মো. রুবেল মিয়া, মো. জুয়েল মিয়া, মো. সালমান মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবক মো. শাহ আলম, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজর আলী, আব্দুল মালেক, আব্দুস সামাদ প্রমুখ।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, এই এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইতোপূর্বে একাধিকবার ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এবার সংগঠনের ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি নি:স্ব পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।
সৈয়দপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ইব্রাহীম মিয়া ও স্ত্রী মোছা. রোশেনা আক্তার জানান, চলতি নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে আমাদের ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যায়। নষ্ট হয় ফসলি জমি ও গাছ-পালা। আমাদের থাকার কোনো জায়গা ছিল না। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে থেকেছি ৪ মেয়ে ১ ছেলেকে নিয়ে। আজ আমাদেরকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সংগঠনের সকলের জন্য দোয়া করি। একই কথা বলেন গ্রামের উত্তরপাড়ার হানিফ মিয়া ও স্ত্রী নাজমা আক্তার। তারা বলেন, ঘর উড়িয়ে নেওয়ার পর ৩ ছেলেকে নিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে অন্যের বাড়ি। আজ আমরা নতুন নির্মাণ ঘর পেয়েছি। সংগঠনের সকলের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করি।
মুসাইদাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মো. আবু হাসান বলেন, আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সাধ্যমত সাহায্য দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আগামীতে আরও ১২টি ঘর নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ঘর নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।