বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ হাজার ২৮৮টি ঘরবাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গেল গত ১৬ জুন সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ এলাকা বন্যা কবলিত হয়। বৃহস্পতিবার ভোর তিনটায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবে যায় জেলার ৮০ ভাগেরও বেশি এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনের তালা ভেঙে জীবন বাঁচিয়েছেন মানুষ। ভয়াবহ বন্যার তা-বে ঘরে থাকা ধান চাল, গহপালিত পশু, জমিতে থাকা সবজি, পুকুরের মাছ সবই ভেসে গেছে। এখনো হাজারো মানুষের ঘরে খাবার নেই, বাইরে কাজ নেই, উঁচু এলাকা থেকে পানি কমলেও নিচু এলাকা এখনও বন্যা কবলিত।
জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জেলার ১১ উপজেলা ও ৪ পৌরসভার ৪৫ হাজার ২৮৮টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৪ হাজার ৭৪৭টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৪০ হাজার ৫৪১টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি, বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের কাজ চলছে।
বন্যায় এলজিইডির ২০০ কিলোমিটার সড়ক, ১২০টি ব্রীজ/কালভার্টের এপ্রোচ এবং ৪টি ব্রীজ/কালভার্টের সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনও অনেক স্থানে পানি থাকায় সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করা সম্ভব যায়নি। এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৮টি সড়কের ১৮৪ কিলোমিটার ও ৩৫টি ব্রীজ/কালভার্টের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকা। বন্যার পানিতে জেলায় ৪২২ টি গরু, ৩৭ টি মহিষ, ৬৬৯ টি ছাগল, ৫১৪ টি ভেড়া, ৯৭ হাজার ৮৩১ টি হাঁস, ২ লক্ষ ৮৮ হাজার ৫৫ টি মুরগীর মৃত্যু হয়েছে। ১৬৩টি সরকারি, প্রায় ২৫ হাজার বেসরকারি এবং মৎস্য বিভাগের ২০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে প্রাপ্ত ৫৫ লক্ষ টাকা এবং ৫০ হাজার ১২২ প্যাকেট ডানো পাউডার দুধ বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নগদ অর্থ (১৮০.৯৩), ১ হাজার ৩৫৬ মে. টন জি.আর চাল, ১১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, শুকনো খাবার (১৪.৫ কেজির বস্তা) ২৮ হাজার প্যাকেট, শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ ১০ লক্ষ টাকা এবং গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ ১০ লক্ষ টাকা সকল উপজেলা ও পৌরসভায় বিতরণ করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৭ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে বিতরণ করা হয়েছে। নগদ অর্থ দিয়ে চিড়া, মুড়ি, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, মোমবাতি, গুড় কিনে প্যাকেটজাত করে বিতরণ করা হয়। এছাড়াও গত ১৮ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত প্রতি উপজেলায় দৈনিক ২ হাজার প্যাকেট এবং জেলা সদরে ২০ হাজার প্যাকেট করে মোট ২ লক্ষ ৫২ হাজার প্যাকেট রান্না করা খিচুরি বিতরণ করা হয়। এছাড়াও বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৯৩৬ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২৬ মে. টন চাল বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র, উপজেলা ও সকল পৌরসভায় বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যার কারণে জেলায় ক্ষয়ক্ষতির তালিকা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারিভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও বেসরকারি ত্রাণ সমন্বয়ের লক্ষে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে সমন্বয় সেল করে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ততার হিসাবে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণের লক্ষে এনজিও/সংগঠন/ব্যক্তিকে রেজিস্ট্রারভুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সমন্বয় করে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।