বন্যায় সড়কের ক্ষতি ১৮শ’ কোটি টাকার

স্টাফ রিপোর্টার
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সুনামগঞ্জের সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সড়ক, সেতু ও কালভার্টের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বানের ¯্রােতে, হাওরের উত্তাল ঢেউয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে সড়ক ও সেতু। এছাড়াও গ্রামীণ রাস্তাঘাটও বিলীন হয়ে গেছে। স্থলপথ বিচ্ছিন্ন থাকায় এখনো পাঁচ উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি।
গত ১৬ জুন থেকে ২২ জুন পর্যন্ত সুনামগঞ্জে সর্বকালের ভয়াবহ বন্যায় পুরো জেলা প্লাবিত হয়। ডুবে যায় বাড়িঘর রাস্তাঘাট। জেলা শহরের সঙ্গে সারাদেশের সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। অভ্যন্তরীণ সব সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বানের জলে সড়ক কেবল ডুবেই যায়নি প্রবল ¯্রােতে ভেসে গেছে সড়ক, সেতু, কালভার্ট। গ্রামীণ জনপদসহ জেলা শহরে আসার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। পানি কমতে থাকায় দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার ক্ষত। ভয়াবহ ক্ষত নিয়ে জেগে ওঠছে সড়ক। তবে এই অবস্থায় কতদিন দুর্ভোগ পোহাতে হবে জানেন না জেলাবাসী।
এখনো সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়রাবাজার, জামালগঞ্জ ও শাল্লা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয় নি। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক, সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর সড়ক, দিরাই-সুনামগঞ্জ সড়ক, সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়ক, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়ক স্থানে স্থানে ভেঙ্গে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে গত ১২ দিন ধরে। এখনো রাস্তাঘাটে পানি থাকায় কবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে সংশ্লিষ্টরাও বলতে পারছেন না।
তবে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় তাদের ১৮৪ কি. মি. সড়ক এবং ২৫টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যায় তাদের ২ হাজার কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ১৩০টি কালভার্ট সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া উপজেলা পরিষদ, প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্মিত পাকা ও মাটির রাস্তাঘাটেরও ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এখন সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষদের। সাচনা থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তা ভাঙা। নৌকা ছাড়া চলাচল করা যাচ্ছে না।
বিশ্বম্ভপুরের চালবন্দের বাসিন্দা আমির মিয়া বললেন, চালবন্দ পয়েন্ট থেকে আব্দুজ জহুর সেতু পর্যন্ত সড়কের অনেক জায়গা ভেঙে গেছে। গাড়ি দিয়ে চলাচল করা যায় না। শহরে মালামাল আনতে নৌকা ব্যবহার করতে হয়।
জামালগঞ্জের সাচনার বাসিন্দা অজিত রায় বললেন, সাচনা থেকে সুনামগঞ্জ সড়কের আগেই অনেক জায়গা ভাঙা ছিলো। কষ্ট-ঝাঁকুনি সহ্য করে চলাচল করা লেগেছে। এখন সে অবস্থাও নেই। কয়েকদিনের বন্যার পানির ঢলে সড়কের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে আমাদের দুর্ভোগ বাড়বে।
দিরাইয়ের জয়ন্ত সরকার বললেন, কয়েক দিনের ভয়াবহ বন্যায় আমাদের দিরাই সুনামগঞ্জ সড়ক ভেঙে গেছে। বানভাসিদের জন্য যারা ত্রাণ নিয়ে আসতে চায় তারা দুর্ভোগে পড়েন। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভোগান্তির জন্য এদিকে ত্রাণ নিয়ে আসেন না।
জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বললেন, শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যায় জেলায় তিলে তিলে গড়ে উঠা গ্রামীণ অবকাঠামো অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন কোনো রাস্তা ছিলো না যা পানির নিচে যায় নি। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার রাস্তাঘাট- ব্রীজ কালভার্ট ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২ হাজার কিলোমিটারের উপরে সড়ক ও ১২০ টি ব্রীজ কালভার্টের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১৫ শ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির ধারণা করা হচ্ছে।